সিসিটিভি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরায় নজরদারি; রাঙ্গুনিয়ায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো দুষ্কৃতকারী নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে প্রশাসন তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। এবারের নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা, বিশেষ সুরক্ষা অ্যাপ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নজরদারি চালানো হবে। জেলা প্রশাসক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতীতের নেতিবাচক ধারণা মুছে ফেলে শতভাগ নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষের ভোটাধিকার একটি পবিত্র আমানত এবং এই আমানতের খেয়ানত করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উপজেলার ৯২টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ মোট ২,০২২ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির সমন্বয়
নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও অবাধ করতে প্রশাসন এবার বহুমুখী প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
- রিয়েল-টাইম মনিটরিং: প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ইউনিফর্মে থাকা ‘বডি-ওর্ন’ ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
- দ্রুত রেসপন্স টিম: রিটার্নিং অফিসার জানান, এমন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে যাতে খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্ট্রাইকিং ফোর্স যে কোনো স্থানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।
- সুরক্ষা অ্যাপ: ভোট গণনা ও ফলাফল আদান-প্রদানে জালিয়াতি রুখতে বিশেষ ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হবে।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা
রিটার্নিং অফিসার জাহিদুল ইসলাম মিঞা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেন:
১. ব্যক্তিগত পছন্দ বর্জন: “আপনার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পছন্দ থাকতে পারে, কিন্তু নির্বাচনের চেয়ারে বসে তা প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। আপনাদের নিরপেক্ষতাই হবে এই নির্বাচনের মূল ভিত্তি।”
২. গণভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা: একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের ব্যালট ও পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের কোনোভাবেই ‘জানি না’ বলার সুযোগ নেই।
৩. বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতা: কোনো অনিয়মের দায় নির্বাচন কমিশন নেবে না; বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে আইনি ও নৈতিক জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে।
গণতন্ত্রের নতুন রূপরেখা
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অতীতের গ্লানি মুছে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপনের এটাই সেরা সুযোগ।
সভায় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানও উপস্থিত থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও র্যাব মোতায়েন করা হচ্ছে।
















