মতামতধর্মী এই নিবন্ধে ড. শোয়েব বালোচ দাবি করেছেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের পথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালি এখন বৈশ্বিক ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। লেখকের মতে, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের ফলে এই নৌপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে পড়ছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিস্তৃত কৌশলগত প্রতিযোগিতার সঙ্গেও যুক্ত। লেখকের মতে, চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় গওয়াদর, হাম্বানটোটা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বন্দর উন্নয়নের মাধ্যমে বিকল্প সামুদ্রিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কোয়াড, অকাসসহ বিভিন্ন জোটের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
লেখক আরও বলেছেন, গওয়াদর বন্দরের কৌশলগত অবস্থানের কারণে পাকিস্তান, বিশেষ করে বেলুচিস্তান, ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, প্রদেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভৌগোলিক অবস্থান একে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।
নিবন্ধের উপসংহারে লেখক মত দিয়েছেন, সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় পাকিস্তানের উচিত বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধান, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। এ নিবন্ধে উত্থাপিত মূল্যায়ন, পূর্বাভাস ও সুপারিশ সম্পূর্ণই লেখকের নিজস্ব মতামত; এগুলো প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপিত নয়।
















