নরওয়ের যুবরাজকন্যা মেটে-মারিতের ছেলে মারিউস বর্গ হইবি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাজধানী অসলোতে বিচার শুরুর প্রথম দিন তিনি চারটি ধর্ষণ মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এই মামলার কারণে নরওয়ের রাজপরিবার নতুন করে চাপ ও সমালোচনার মুখে পড়েছে, বিশেষ করে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যুবরাজকন্যার অতীত যোগাযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর হয়েছে।
অসলো জেলা আদালতে মঙ্গলবার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে হইবির অন্তত ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ২৯ বছর বয়সী হইবি যুবরাজকন্যা মেটে-মারিতের সন্তান এবং সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ হাকনের সৎপুত্র। যদিও তাঁর কোনো রাজকীয় উপাধি বা আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেই, তবু মামলাটি নরওয়ের রাজপরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মামলার কিছু অংশ গোপনে অনুষ্ঠিত হবে। হইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক আক্রমণ ও মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগ।
২০২৪ সালে একাধিকবার গ্রেপ্তারের পর গত বছরের আগস্টে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার শুরুর আগ পর্যন্ত তিনি মুক্ত ছিলেন। তবে রোববার নতুন করে হামলা, ছুরি দিয়ে হুমকি এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত মনে করেছে, পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি থাকায় তাঁকে সর্বোচ্চ এক মাস হেফাজতে রাখা প্রয়োজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এক সাবেক সঙ্গীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে। আরেক সঙ্গীর বিরুদ্ধে সহিংসতার দুটি অভিযোগ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যের বিষয়ও মামলায় অন্তর্ভুক্ত।
হইবির আইনজীবী পেটার সেকুলিচ জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল সব ধরনের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সহিংসতার অধিকাংশ অভিযোগও মানছেন না। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারটি আরেক ব্যক্তির সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তিনি উল্লেখ করেন, তবে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
এই বিচার শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন নরওয়ের রাজপরিবার যুবরাজকন্যা মেটে-মারিতের সঙ্গে প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের যোগাযোগ নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে তাঁর নাম বহুবার উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে মেটে-মারিত বলেন, এপস্টেইনের অতীত সম্পর্কে যথেষ্ট খোঁজ না নেওয়ার দায় তিনি নিজেই নিচ্ছেন। তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি অত্যন্ত বিব্রতকর এবং তাঁর জন্য লজ্জাজনক।
















