ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পথে এগোবে তেহরান। তিনি জানান, আঞ্চলিক কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে আলোচনার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তবে শর্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই আলোচনার পরিবেশ হতে হবে হুমকি ও অযৌক্তিক প্রত্যাশামুক্ত।
ইরানি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তা পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দেবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনায় হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। একই সঙ্গে ইরানের আশপাশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, যেকোনো আলোচনা ইরানের জাতীয় স্বার্থের কাঠামোর মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তিনি আশাবাদী যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যদি কোনো সমাধান পাওয়া যায়, তাহলে সেটি ভালো হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালায়, যার নাম দেওয়া হয় অপারেশন মিডনাইট হ্যামার। এর আগে ইসরায়েলও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযান চালায়।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের দিকে শক্তিশালী সামরিক বহর পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এই রণতরিতে প্রায় ৭০টি যুদ্ধবিমান রয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের কথাও উঠে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, এমন দমনমূলক পরিস্থিতি তারা আগে কখনো দেখেননি।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা ছয় হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে শিশু ও সরকারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রয়েছেন। আরও হাজারো মৃত্যুর ঘটনা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস সংস্থার ধারণা, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মূলত অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতাকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভের পর জনরোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভয় দেখিয়ে আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।
















