জিমে ভর্তি হওয়া, পাহাড়ে দৌড়ানো বা স্পিন ক্লাসে যোগ দেওয়া—ফিট থাকতে গেলে এমন বড় আয়োজনই যে একমাত্র উপায়, এমন ধারণাই বেশি প্রচলিত। কিন্তু সময় বা আগ্রহ না থাকলে কী করবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন গবেষক জো ব্লজেট। তার মতে, দৈনন্দিন জীবনের ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট শারীরিক কার্যকলাপ যোগ করলেই মিলতে পারে বড় উপকার। তিনি একে বলেন ‘এক্সারসাইজ স্ন্যাকস’।
লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের ইনস্টিটিউট অব স্পোর্ট, এক্সারসাইজ অ্যান্ড হেলথে কর্মরত এই গবেষক জানান, স্বল্প সময়ের কিন্তু তুলনামূলক বেশি জোরালো নড়াচড়া স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শ্বাসপ্রশ্বাস একটু দ্রুত হওয়া বা হৃদস্পন্দন বাড়ানো উপকারী হলেও সেটাই পুরো গল্প নয়।
তিনি বলেন, বিশেষ পোশাক বা জিমের সদস্যপদ ছাড়াও শরীরচর্চা সম্ভব, যদি দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই একটু বেশি গতি বা পরিশ্রম যোগ করা যায়।
তার পরামর্শ অনুযায়ী, লিফটের সঙ্গে সঙ্গে সিঁড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। পুরোটা না উঠে কয়েক তলা সিঁড়ি দিয়ে উঠে পরে লিফট নেওয়াও কার্যকর। বাসে যাতায়াত করলে এক স্টপ আগে নেমে শেষ অংশটা দ্রুত হেঁটে যাওয়া যায়। নিয়মিত হাঁটার সময় দুই খুঁটির মাঝখানে গতি বাড়িয়েও শরীরচর্চা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, যারা খুব কম নড়াচড়া করেন, তাদের ক্ষেত্রে দিনে এক থেকে দুই মিনিটের তিন বা চার দফা জোরালো নড়াচড়াই হৃদ্রোগের ঝুঁকি ও আয়ু বাড়াতে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
তবে যারা সপ্তাহে এক-দুবার জিমে যান বা খেলাধুলা করেন, তাদের জন্যও সতর্কবার্তা আছে। জো ব্লজেট তাদের ‘অ্যাকটিভ কাউচ পোটেটো’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, সপ্তাহে আধা ঘণ্টা জিমে কাটালেও যদি বাকি সময় সারাদিন বসে থাকা হয়, তাহলে তার সুফল সীমিত হয়ে যায়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিমের ৩০ মিনিটের বাইরে বাকি ২৩ ঘণ্টা কী করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই অফিসে কাজের ফাঁকে বারবার উঠে দাঁড়ানো, লাঞ্চের সময় কিছুটা হাঁটা বা ফোন মিটিং হাঁটতে হাঁটতে করার পরামর্শ দেন তিনি।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে প্রতি ১৫ বা ৩০ মিনিট পরপর একটু নড়াচড়া করাই ভালো।
তিনি বলেন, জিম বাদ দিতে হবে এমন নয়। তবে সবচেয়ে বেশি উপকার দেয় উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ, এরপর মাঝারি মাত্রার কাজ যেমন হাঁটা। কিন্তু সারাদিন বসে থাকা কমানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু দেশ ইতোমধ্যে শরীরচর্চার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেছে। সেখানে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে দিনে কতক্ষণ বসে থাকা কমানো যায়। ধরুন, আট ঘণ্টা ঘুমালে জাগ্রত সময়ের অন্তত অর্ধেক সময় নড়াচড়া থাকা উচিত।
জো ব্লজেটের মতে, দিনে আট ঘণ্টার কম বসে থাকার চেষ্টা করা ভালো। ঘরের কাজ, বাজারের ব্যাগ বহন, লন কাটার মতো কাজও শক্তি ও ভারসাম্য বাড়াতে সাহায্য করে। শিশুদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় বসিয়ে না রেখে খেলাধুলার সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, শরীরচর্চার কোনো একক সোনালি নিয়ম নেই। যত বেশি নড়াচড়া করা যায়, ততই ভালো।
















