ট্রাম্পের নতুন ফেড চেয়ারম্যান মনোনয়ন ও মুনাফা সংগ্রহের হিড়িক
রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিশ্ববাজারে সোনার দামে এক ঐতিহাসিক পতন দেখা দিয়েছে যার প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নতুন নেতৃত্বের ইঙ্গিত এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা
বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত ২৬ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলার অতিক্রম করে এক পর্যায়ে ৫ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শুরুতেই এই মূল্যে বড় ধরনের ধস নামে। গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক দিনেই সোনার দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪০৩ ডলারে নেমে আসে, যা গত ৪০ বছরের মধ্যে একদিনে সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই আকস্মিক পতনের নেপথ্যে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করেছে:
- কেভিন ওয়ার্শের মনোনয়ন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে মনোনীত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়ার্শ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের (Hawkish) জন্য পরিচিত। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, তার নেতৃত্বে সুদের হার কমানোর গতি ধীর হতে পারে, যা মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করেছে এবং সোনার আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে।
- বিনিয়োগকারীদের মুনাফা সংগ্রহ (Profit Booking): গত এক মাসে সোনার দাম অস্বাভাবিক হারে ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী তাদের হাতে থাকা সোনা বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন। এর ফলে বাজারে সরবরাহের চাপ বাড়ে এবং দাম দ্রুত পড়ে যায়।
- মার্জিন বৃদ্ধি ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: মার্কিন এক্সচেঞ্জগুলোতে সোনা কেনাবেচার জন্য জামানত বা মার্জিনের হার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে অনেক ব্যবসায়ী পজিশন ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার খবরও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
















