দুটি অনাস্থা প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৬ সালের বাজেট পাস করেছে ফ্রান্স। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর সংখ্যালঘু সরকারের জন্য আপাতত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথ খুলে গেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সোমবার চার মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে বাজেটটি অনুমোদিত হয়। এতে সরকারি ঘাটতি কমানো এবং সামরিক ব্যয় বাড়ানোর একাধিক পদক্ষেপ রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, অবশেষে ফ্রান্স একটি বাজেট পেল। এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখছে এবং ব্যক্তি ও ব্যবসার ওপর নতুন কর চাপাচ্ছে না।
বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবো, গ্রিন পার্টি ও তাদের মিত্রদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব সরকার পতনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৮৯ ভোটের মধ্যে পেয়েছে ২৬০ ভোট। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থীদের অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন এসেছে মাত্র ১৩৫ ভোট।
২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আকস্মিক নির্বাচনের পর ঝুলন্ত পার্লামেন্ট তৈরি হলে ফ্রান্সের রাজনীতিতে দীর্ঘ অস্থিরতা শুরু হয়। একই সময়ে সরকারি অর্থনীতিতে বড় ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ব্যয় সংকোচনের চাপ বাড়তে থাকে। এই বাজেট ঘিরে টানা দরকষাকষির জেরে আগের দুই প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় নিতে হয়, ঋণবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ইউরোপীয় অংশীদার দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ ছড়ায়।
অক্টোবরে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব নেওয়ার পর লেকর্নু সমাজতান্ত্রিক দলকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়ে তাদের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন, যা শেষ পর্যন্ত বাজেট পাসে ভূমিকা রাখে।
ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য
ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপের মুখে ফ্রান্সকে ঋণ ও জিডিপির অনুপাত কমাতে হচ্ছে। বর্তমানে গ্রিস ও ইতালির পর ফ্রান্সের এই অনুপাত ইইউতে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং ইউনিয়নের নির্ধারিত ৬০ শতাংশ সীমার প্রায় দ্বিগুণ।
নতুন বাজেটে ২০২৫ সালের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ঘাটতি কমিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সরকার ৪ দশমিক ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে আসে।
বাজেটে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে, যার মাধ্যমে ২০২৬ সালে প্রায় ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আদায়ের আশা করা হচ্ছে। তবে অতিধনীদের ওপর সম্পদ কর আরোপের প্রস্তাব সমাজতান্ত্রিক দল তুললেও সেটি অনুমোদন পায়নি।
এ ছাড়া সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরো, যা প্রধানমন্ত্রী বাজেটের কেন্দ্রীয় অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।
সমাজতান্ত্রিক দল কিছু সামাজিক সুবিধা আদায় করতে পেরেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য এক ইউরোর খাবার ব্যবস্থা এবং নিম্নআয়ের কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা বৃদ্ধি।
এই বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে ফ্রান্স আপাতত রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এগোতে চায় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
















