ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি আবাসিক ভবনে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্যাস লিকের কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার এই বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আমিন লিয়াঘাত রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, ভবনের ভেতরে গ্যাস জমে গিয়ে বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান মেহরদাদ হাসানজাদেহর বরাতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটতলা ওই ভবনের অন্তত দুটি তলা ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি আশপাশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, ভবনের সামনের অংশ উড়ে গিয়ে ভেতরের কাঠামো প্রকাশ হয়ে পড়েছে এবং চারপাশে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে আছে।
বিস্ফোরণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়লে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, তাদের নৌবাহিনীর কোনো স্থাপনায় হামলা চালানো হয়নি।
স্থানীয় এক সংবাদপত্রে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সবুজ পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরে জানা যায়, উদ্ধারকাজে অংশ নিতে গিয়ে একজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কাঠামো নিয়ে কাজ এগোচ্ছে এবং গণমাধ্যমে তৈরি আতঙ্ককে তিনি অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পও মন্তব্য করেন, ইরান সামরিক সংঘাতের বদলে সমঝোতায় আগ্রহী। তিনি বলেন, আলোচনা চলছে, না হলে পরিস্থিতি ভিন্ন পথে যেতে পারে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত বন্দর আব্বাস ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার বন্দর। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সামুদ্রিক তেল পরিবহন হয়। গত বছর এপ্রিলেও এই বন্দরে বড় ধরনের বিস্ফোরণে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছিল।
এদিকে একই দিনে ইরাক সীমান্তের কাছে আহভাজ শহরে পৃথক আরেকটি গ্যাস বিস্ফোরণে চারজন নিহত হন। সেখানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
















