নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন মো. ইফতেখার হোসেন, আনফাজ ইসলাম ও অপি দাস।
চুয়েট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে চুয়েট ও নরওয়ের এগডার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত কেয়ার প্রকল্পের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান চুয়েটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের চারজন শিক্ষার্থী। ওই কোর্সটি ২০২৪ সালের ১৭ জুন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনজন শিক্ষার্থী নরওয়ের ট্রনহাইম শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন করেন। একই সঙ্গে অর্ণব দাস নামে আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী যান্ত্রিক ও রোবোটিক নকশা প্রকৌশলী হিসেবে নরওয়ের একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।
নরওয়েতে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনফাজ ইসলাম বলেন, স্নাতক কোর্স শেষের দিকে থাকতেই তারা নরওয়ের কেয়ার প্রকল্প সম্পর্কে জানতে পারেন। চুয়েট ও নরওয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সহযোগিতাকে তিনি অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো ভবিষ্যৎমুখী বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, যাতায়াত ব্যয় এবং মাসিক থাকা ও খাওয়ার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রকল্পটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক ছিল।
তিনি আরও জানান, নরওয়ের শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশের তুলনায় ভিন্নধর্মী। এখানে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে প্রয়োগভিত্তিক দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়। অধিকাংশ কোর্সে লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে প্রজেক্ট ও অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। যেসব কোর্সে পরীক্ষা হয়, সেগুলোর অনেকটাই উন্মুক্ত বই পদ্ধতিতে নেওয়া হয়।
শুরুর দিকে এই পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন বলে জানান আনফাজ ইসলাম। তিনি বলেন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণামুখী পরিবেশ তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রকৌশলী হিসেবে সাফল্যের বিষয়ে অর্ণব দাস বলেন, বৈশ্বিক যোগাযোগ ও উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি মেকানিক্যাল প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন আধুনিক প্রকৌশল সফটওয়্যারে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মৌলিক যান্ত্রিক জ্ঞান, উপাদানের গুণাগুণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে চুয়েট ও নরওয়ের এগডার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কেয়ার প্রকল্প চালু হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর চুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা তুলে ধরছে।
















