শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার দাপট থাকবে; সোমবার থেকে বাড়তে পারে ঠান্ডার তীব্রতা
জানুয়ারির শেষে এসে শীতের প্রকোপ কিছুটা কম মনে হলেও এখনই বিদায় নিচ্ছে না ঠান্ডা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের তাপমাত্রা ফের ওঠানামা করবে এবং রাতের দিকে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশের প্রভাব এবং লঘুচাপের গতিপ্রকৃতির কারণে সোমবার থেকে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পাবে, যার ফলে দেশজুড়ে আবারও জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করতে পারে। তবে মঙ্গলবার থেকে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হয়ে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়ায় ধূলিকণার প্রকোপ বাড়তে পারে।
তাপমাত্রার গতিপ্রকৃতি ও পূর্বাভাস
আগামী তিন থেকে চার দিনের আবহাওয়ার সম্ভাব্য চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
- শনিবার ও রোববার: দেশের দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে আর্দ্রতার কারণে শীতের অনুভূতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
- সোমবার: এ দিন থেকে রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতল বাতাসের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডার আমেজ ফিরতে পারে।
- মঙ্গলবার: সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে রাতের তাপমাত্রা ফের সামান্য বাড়তে শুরু করতে পারে, যা শীত কমার ইঙ্গিত দেবে।
কুয়াশা ও দৃশ্যমানতা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এতে দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি কমে আসায় নৌযান ও সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও দেশের অধিকাংশ স্থানে রোদোজ্জ্বল আবহাওয়া বজায় থাকবে।
সিনপটিক অবস্থা
বর্তমানে লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় আর্দ্র বাতাসের প্রবাহ কিছুটা কম। এর ফলে আগামী কয়েক দিন তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা না থাকলেও শীতের স্থায়িত্ব আরও কয়েক দিন বাড়তে পারে।
















