ওয়াটার স্যালুটে বিজি-৩৪১ ফ্লাইটকে বরণ করল পাকিস্তান; সরাসরি সংযোগে কমবে ভাড়া ও ভোগান্তি
সাড়ে এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা থেকে সরাসরি উড়ে গিয়ে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি পাকিস্তানের মাটি স্পর্শ করার পর সেটিকে ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াটার স্যালুট’ দিয়ে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়। ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট, যা দুই দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছে পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ)। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট ঝামেলা ছাড়াই মাত্র ৪ ঘণ্টায় করাচি পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা একই সাথে ভ্রমণের খরচ এবং সময়—উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।
উদ্বোধনী ফ্লাইটে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যা দুই দেশের পর্যটন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফ্লাইটের সময়সূচী ও ট্রানজিট মুক্তি
বাংলাদেশ বিমান প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে:
- সময়সূচী: প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শনিবার রাত ৮:১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানটি করাচির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং পাকিস্তান সময় রাত ১১:০০ টায় পৌঁছাবে। ফিরতি ফ্লাইটটি করাচি থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২:০১ মিনিটে ছেড়ে এসে ভোর ৪:২০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবে।
- সাশ্রয়: আগে দুবাই বা দোহা হয়ে ট্রানজিট ফ্লাইটে যেতে যেখানে ৮ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগত এবং ভাড়া পড়ত প্রায় ১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি, এখন সরাসরি ফ্লাইটে তা কমে অর্ধেকে (প্রায় ৫৬ হাজার টাকা) নেমে এসেছে।
- উড়োজাহাজ: এই রুটে বর্তমানে ১৬২ আসনবিশিষ্ট আধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বিদায়
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই ফ্লাইটের উদ্বোধন করা হয়:
১. উপস্থিতি: বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও বিমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২. নতুন সম্ভাবনা: উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই সরাসরি সংযোগ কেবল আকাশপথ নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মেলবন্ধনে বড় ভূমিকা রাখবে।
৩. টেস্ট রান: প্রাথমিকভাবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে এই ফ্লাইট চলবে। যাত্রীদের চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তীতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই মুসলিম দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও আকাশপথের যোগাযোগ পুনস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে চট্টগ্রাম ও করাচি বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল। বিমানের এই নতুন রুট চালুর মাধ্যমে সেই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
















