সস্তা ও দক্ষ চীনা ইভিতে বিশ্ব এগোচ্ছে, পিছিয়ে না পড়তে হলে যুক্তরাষ্ট্রকেও নীতি বদলাতে হবে
১২৫ শতাংশ শুল্কে চীনা ইভি ঠেকিয়ে রাখায় যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে—মত বিশ্লেষকদের।
বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চীনের সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি)। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কার্যত নিষিদ্ধ এই গাড়িগুলো, কারণ দেশটি চীনা ইভির ওপর আরোপ করেছে মোট ১২৫ শতাংশ শুল্ক। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক নোয়া স্মিথ মনে করেন, চীনকে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখলেও ইভি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাঁর মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির দৌড়ে বিশ্ব যখন দ্রুত এগোচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দেশটির বড় অটোমেকার—ফোর্ড, জেনারেল মোটরস ও স্টেলান্টিস—ইভি উৎপাদনে প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে ইভির গ্রহণযোগ্যতা সম্প্রতি স্থবির হয়ে পড়েছে। ভর্তুকি কমানো, টেসলার জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং দেশীয় নির্মাতাদের বিনিয়োগ কমিয়ে আনা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর ফলে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির মূল ভিত্তি—ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক মোটর উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সামরিক ও শিল্প সক্ষমতার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনা ইভি শুধু সস্তাই নয়, প্রযুক্তিগতভাবেও এগিয়ে। দ্রুত চার্জিং, উন্নত সফটওয়্যার ও আধুনিক নকশার কারণে অনেক দেশেই এসব গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। মেক্সিকোর মতো দেশে উচ্চ শুল্ক থাকা সত্ত্বেও চীনা ইভি বাজার দখল করছে।
এই প্রেক্ষাপটে কানাডার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। দেশটি চীনা ইভির ওপর শুল্ক প্রায় পুরোপুরি কমিয়ে এনেছে এবং সীমিত কোটা নির্ধারণ করে আমদানির অনুমতি দিয়েছে। বিনিময়ে চীন কানাডার কৃষিপণ্যে শুল্ক কমিয়েছে এবং অটোমোবাইল খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নোয়া স্মিথের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কানাডার পথ অনুসরণ করতে পারে, তবে আরও কৌশলগতভাবে। সীমিত পরিসরে চীনা ইভি আমদানির অনুমতি দিয়ে স্থানীয় উৎপাদন, যৌথ উদ্যোগ এবং ব্যাটারি ও মোটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দেশে তৈরির শর্ত আরোপ করা যেতে পারে।
তিনি মনে করেন, এতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইভির চাহিদা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্প প্রতিযোগিতার চাপে উদ্ভাবনে বাধ্য হবে। অতীতে জাপানি গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের অটোশিল্পকে আধুনিক করতে সহায়তা করেছিল—চীনা ইভিও একই ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। চীনা সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিক্স ব্যবহারের ফলে নজরদারি বা নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য স্থানীয় ক্লাউড, যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, নিয়ন্ত্রিত ও কৌশলগতভাবে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার উন্মুক্ত করলে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি, শিল্প ও ভোক্তা—তিন ক্ষেত্রেই লাভবান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
















