ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলে আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ফেডারেল সরকারের সেনা ও তিগ্রায়ান বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। এই সংঘর্ষের জেরে অঞ্চলটিতে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে সূত্রগুলো জানায়, পশ্চিম টাইগ্রের ত্সেমলেট এলাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই শুরু হয়েছে। এই এলাকা প্রতিবেশী আমহারা অঞ্চলের বাহিনীর দাবিকৃত বলেও জানা গেছে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।
২০২০ সালে শুরু হওয়া টাইগ্রে যুদ্ধ দুই বছর ধরে চলার পর ২০২২ সালে শেষ হয়। ওই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। যুদ্ধ শেষে শান্তি ফিরলেও অঞ্চলটি এখনো চরম দারিদ্র্য ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রয়েছে।
সম্প্রতি টাইগ্রের হিটসাটস গ্রাম থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্থানীয় মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির সহায়তায় কোনোভাবে টিকে ছিল এলাকাটি।
তবে এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর সেই সহায়তা হঠাৎ কমে যায়। এর ফলে টাইগ্রে জুড়ে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
সহায়তা তহবিল কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ইথিওপিয়ায় কর্মরত চিকিৎসা সহায়তা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাতাদের অর্থছাঁট একটি ইতোমধ্যেই দুর্বল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
তাঁদের মতে, অনেক সংস্থা অর্থসংকটের কারণে কার্যক্রম কমিয়ে আনছে বা বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো চিকিৎসা ও মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যদিও সামগ্রিক মানবিক প্রয়োজন আগের মতোই রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র কিছু সহায়তা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সহায়তার খুব কমই টাইগ্রের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় পৌঁছাচ্ছে। দীর্ঘ সংঘাতের ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে না পারা এই অঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
















