যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা ভুল হবে এবং কূটনৈতিক ও ধাপে ধাপে সমাধানের পথেই অগ্রসর হওয়া উচিত।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যখন সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, তখন অঞ্চলভিত্তিক সহযোগিতা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। তার মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের উচিত আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানো।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আবার যুদ্ধ শুরু করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠিয়েছে। গত বছরের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, ইরানও জানিয়েছে, আবার হামলা হলে তারা কঠোর ও অনুশোচনামূলক জবাব দেবে।
এই উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে বলে মনে করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষায়, ইরান আবারও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
গত জুনে ইসরায়েলের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। তখন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তেহরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে সরে আসেনি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই।
হাকান ফিদান বলেন, পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন নিয়েও আপত্তি তুলছে। তবে সব বিষয় একসঙ্গে চাপিয়ে দিলে সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে।
তার পরামর্শ, একবারে সব বিষয় নয়, বরং একেকটি ইস্যু আলাদা করে নিষ্পত্তি করা উচিত। প্রথমে পারমাণবিক বিষয়টি সমাধান করে পরে অন্য ইস্যুতে যাওয়া হলে আলোচনার পথ সহজ হবে। সবকিছু একসঙ্গে সামনে আনলে তা ইরানের জন্য গ্রহণ করা কঠিন হবে এবং দেশটির নেতৃত্বের জন্যও তা ব্যাখ্যা করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ইরান আঞ্চলিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এজন্য দেশটিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের কর্মকাণ্ড কীভাবে আঞ্চলিকভাবে দেখা হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
ভিন্ন মতাদর্শ, রাজনৈতিক ধারা ও ধর্মীয় পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা ছাড়া বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এই সাক্ষাৎকারের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ আগামী বৃহস্পতিবার সম্প্রচার করা হবে।
















