মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ার মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, এই অঞ্চলে অস্থিরতা কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী এলাকায় পৌঁছানোর পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের মধ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশে ওই রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।
ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব হুমকি মূলত অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হচ্ছে এবং এর ফল হবে কেবল অস্থিতিশীলতা। তার দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থনৈতিক চাপ ও বহিরাগত হস্তক্ষেপসহ সাম্প্রতিক শত্রুতামূলক তৎপরতা ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও সচেতনতা দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সৌদি যুবরাজ এই সংলাপকে স্বাগত জানান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি রিয়াদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উত্তেজনা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, যুবরাজ স্পষ্ট করে বলেছেন—ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। তিনি বিরোধ মীমাংসায় সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানান।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট সৌদি আরবের এই অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যুবরাজের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এই ফোনালাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে হামলার হুমকি দেন এবং জানান, একটি বড় নৌবহর ইরানের দিকে এগোচ্ছে। যদিও তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে চুক্তির পথও খোলা রয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো বন্ধু হলেও তাদের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা যদি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গত বছর ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রও এতে যুক্ত হয়। ওই সংঘাতের পর থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়িয়ে চলেছে, যদিও আলোচনা এখনো পুনরায় শুরু হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ইরানে কোনো হামলা হলে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তারা জানিয়েছে, নিরাপত্তাহীনতা সংক্রামক এবং তা শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
















