ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে—এমন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে এবং প্রয়োজনের চেয়েও বেশি মজুত আছে। তিনি জানান, নতুন করে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ইউরোপসহ মিত্র দেশগুলোকেও আরও সরবরাহ দেওয়া হবে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা রয়েছে এবং যেকোনো সময় প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
তবে সিএনএনসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে থাকা থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় যুদ্ধ-পূর্ব মজুত পুনরুদ্ধারে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব ইন্টারসেপ্টর শেষ হয়ে গেলে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার বিকল্প খুবই সীমিত। একই সঙ্গে এটিএসিএএমএস (ATACMS) ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের (PrSM) মজুত কমে যাওয়ায় দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার সক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের ফলে শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়, ভবিষ্যতে চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে প্রতিরোধ করার সক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও এসব ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎপাদন সম্ভব নয়; সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন সময়।
















