মিডিয়ায় কিউবায় তেল পাঠানো বাতিলের খবর প্রকাশের পরও দেশটির পাশে থাকার কথা জানিয়েছে মেক্সিকো। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, কিউবার সঙ্গে সংহতি বজায় রাখবে তার সরকার।
মঙ্গলবার মেক্সিকো সিটির ন্যাশনাল প্যালেসে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় কিউবাকে তেল বিক্রি বা সরবরাহ করা মেক্সিকোর সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেমেক্স বা সরকার নিজেই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবার অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে মেক্সিকো। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও তীব্র জ্বালানি সংকটে থাকা কিউবা টিকে থাকতে মিত্র দেশগুলোর স্বল্পমূল্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল।
এর আগে ভেনেজুয়েলা কিউবাকে কম দামে তেল সরবরাহ করত। তবে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল পাঠানো বন্ধ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মার্কিন সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিনের ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে।
গত ডিসেম্বরেও মেক্সিকো থেকে কিউবায় তেল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ব্লুমবার্গ ও মেক্সিকোর সংবাদপত্র রিফর্মাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, জানুয়ারিতে নির্ধারিত একটি চালান বাতিল করা হয়েছে।
এই বিষয়ে সরাসরি নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান শেইনবাউম। কিউবায় আবার তেল পাঠানো হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তা জানানো হবে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, কিউবার প্রতি সংহতি অব্যাহত থাকবে।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের আশঙ্কায় কিউবায় তেল পাঠানো চালু রাখা হবে কি না, তা পর্যালোচনা করছে মেক্সিকো সরকার।
এদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, কিউবা খুব শিগগিরই ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা কিউবাকে কোনো তেল বা অর্থ সহায়তা পাঠায়নি।
শিপিং তথ্য ও ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর নথি অনুযায়ী, প্রায় এক মাস ধরে কিউবায় কোনো তেল বা জ্বালানি পাঠানো হয়নি। গত বছর মেক্সিকো প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় সরবরাহ করেছিল। ভেনেজুয়েলার সরবরাহ বন্ধ থাকায় মেক্সিকোর তেল এখন কিউবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।














