নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বলে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ক্রিকেটার, বিশেষজ্ঞ এবং ক্রিকেট সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত খেলাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি চরম অবিচারের উদাহরণ।
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অচলাবস্থার পর শনিবার আইসিসি বাংলাদেশকে আসন্ন বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই ক্রিকেটবিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিশ্ব ক্রিকেটারদের সংগঠনের প্রধান নির্বাহী টম মফাট এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়া ক্রিকেটের জন্য একটি দুঃখজনক অধ্যায়। তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে এবং বিষয়টি গভীরভাবে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভাজন বা বর্জনের পথ না বেছে নিয়ে ক্রিকেটের নেতৃত্বকে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খেলাটিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর খুব কাছাকাছি সময়ে সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলেই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে সাবেক ক্রিকেটাররা প্রশ্ন তুলেছেন, একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এর আগে ভারতের ম্যাচ পাকিস্তান থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে নেওয়া হয়েছিল।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভারতের সব ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজনের ব্যবস্থা করেছিল আইসিসি। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই নীতি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি এই সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোটি কোটি সমর্থক সম্মান পাওয়ার যোগ্য, দ্বৈত মানদণ্ড নয়। তিনি বলেন, আইসিসির উচিত সেতুবন্ধন তৈরি করা, সম্পর্ক নষ্ট করা নয়।
আরেক সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, একই ধরনের উদ্বেগে আগে নিরপেক্ষ ভেন্যু অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তাহলে এখন কেন মানদণ্ড বদলানো হলো। আইসিসির উচিত নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে আইসিসি অবিচার করেছে। তিনি বলেন, এক দেশের জন্য এক নিয়ম আর অন্য দেশের জন্য ভিন্ন নিয়ম হতে পারে না। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলার অধিকার রয়েছে এবং তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
নকভি আরও জানান, পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির সরকার। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ীই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
















