নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তকে করিডর বানিয়ে আবারও সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র
মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে পাচারের অপেক্ষায় অন্তত সাত হাজার বার্মিজ গরু জড়ো করে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে গত পাঁচ দিনে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৫০০ গরু দেশে ঢুকিয়েছে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বড় একটি অংশ বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে লাগোয়া প্রায় ২৮২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে থাকা বহু সীমান্তচৌকি কার্যত তাদের দখলে থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোরাচালান ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, সীমান্তের ওপারে জড়ো করা সাত হাজারের বেশি গরুর একটি অংশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ঢুকেছে। গত পাঁচ দিনে অভিযান চালিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা ৫৫টি গরু জব্দ করেছেন। তবে পাচার হওয়া গরুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বিশেষ করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রায় ১০০ কিলোমিটার পাহাড়ি ও জঙ্গলাকীর্ণ সীমান্ত এলাকা চোরাকারবারিদের নিরাপদ করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গভীর বন, পাহাড়ি ঝিরি এবং অসংখ্য সরু গোপন পথ থাকায় রাতের আঁধারে সহজেই গরু পাচার করা সম্ভব হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা জেবরমুল্লুক, ছৈয়দ হোসেন ও আবদু মান্নান জানান, কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর গত এক মাস ধরে আবারও বার্মিজ গরু পাচার শুরু হয়েছে। মিয়ানমারে অর্থ সংকট তীব্র হওয়ায় সেখানকার চোরাকারবারিরা দ্রুত গরু বিক্রি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এ কারণে তারা বাংলাদেশ অংশের ঘুমধুম, তুমব্রু, সোনাইছড়ি, নিকুছড়ি, ফুলতলী, জামছড়ি, ধর্মেরছড়া ও পাইনছড়ি সীমান্ত পয়েন্টের স্থানীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গরু পাচারের পাশাপাশি একই রুট ব্যবহার করে ইয়াবা, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যও দেশে ঢুকছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
















