বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ডাভোস সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুন সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিতসহ একাধিক আগ্রাসী বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় নেতারাও একই সুরে সমালোচনায় মুখর হন। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করে নিন্দা জানায়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, ইউরোপীয় শক্তিগুলোর অনেকেই এখনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উপনিবেশিক শাসনের উত্তরাধিকার বহন করছে এবং অতীতের সহিংসতা ও দমননীতির পূর্ণ দায় স্বীকার করেনি। ফ্রান্স এখনও ক্যারিবীয় সাগর ও ভারত মহাসাগরের একাধিক ভূখণ্ড শাসন করছে, যেগুলোকে প্রশাসনিকভাবে মূল রাষ্ট্রের অংশ করা হলেও বাস্তবে সেগুলোর মানুষ বৈষম্য ও অবহেলার শিকার।
ফ্রান্সের উপনিবেশিক ইতিহাস বিশেষভাবে বিতর্কিত। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানির জন্য দেশটি আজও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। একইভাবে বেলজিয়ামের শাসনে কঙ্গোতে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের জন্য কেবল অনুশোচনা প্রকাশ করা হলেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমা দেওয়া হয়নি। ব্রিটেন, স্পেন ও ইতালির উপনিবেশিক ইতিহাসেও ব্যাপক সহিংসতা, লুণ্ঠন ও গণহত্যার নজির রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ যখন ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষার সমালোচনা করছে, তখন তাদের নিজেদের অতীত ও বর্তমান ভূমিকা নিয়েও আত্মসমালোচনা জরুরি। ডেনমার্কের অধীনে দীর্ঘদিন গ্রিনল্যান্ড উপনিবেশ হিসেবেই ছিল—এই ইতিহাসও উপেক্ষা করা যায় না।
এ ছাড়া গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির পরও ইউরোপ কার্যকর ও কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই নীরবতা ও দ্বৈত মানসিকতা নতুন ধরনের উপনিবেশবাদী রাজনীতিকে উৎসাহ দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের অভিমত, উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান যদি নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে হয়, তবে তা হতে হবে সার্বজনীন ও সৎ। কেবল নির্বাচিত ক্ষেত্রে নিন্দা জানিয়ে অন্য ক্ষেত্রে নীরব থাকা হলে সেই অবস্থান বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।
















