কিয়েভ থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেত্রী ইউলিয়া তিমোশেঙ্কোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেশটির যুদ্ধকালীন রাজনীতিকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার তদন্তকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০০৪ সালের কমলা বিপ্লবের সময় ইউক্রেনের রাজনীতিতে উত্থান ঘটে তিমোশেঙ্কোর। ওই আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন মস্কোপন্থী প্রার্থী ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বিতর্কিত বিজয় বাতিল হয় এবং তিমোশেঙ্কো দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। তবে পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক পথচলা নানা বিতর্ক ও কেলেঙ্কারিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে তিমোশেঙ্কো প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ‘সংকীর্ণমনা স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, তাকে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাইরে রাখতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্নীতির মামলায় জড়ানো হয়েছে। যদিও যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন নিষিদ্ধ রয়েছে।
দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, তিমোশেঙ্কো সংসদ সদস্যদের ভোট কেনার মাধ্যমে নতুন প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি মন্ত্রীর নিয়োগ ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। তদন্তকারীরা তার দলের কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালান এবং কথিতভাবে ঘুষের বিষয়ে আলাপের একটি অডিও প্রকাশ করেন। এতে প্রতি ভোটের জন্য অর্থ প্রদানের কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো এককালীন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থার অংশ। সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্টভাবে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ইউক্রেনের সংসদে তিমোশেঙ্কোর দলের আসন সংখ্যা মাত্র ২৫ হলেও ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দুর্বল হওয়ায় তার দলের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাশিয়ার হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন জ্বালানি মন্ত্রীর নিয়োগে বিলম্ব দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও তাপ সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা তিমোশেঙ্কোর এই ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, যুদ্ধের সময় প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতের নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের জন্য গুরুতর অপরাধের শামিল।
বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করেন, জনপ্রিয়তায় তিমোশেঙ্কো বর্তমানে জেলেনস্কির কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নন। জনমত জরিপে তার সমর্থন মাত্র কয়েক শতাংশে নেমে এসেছে। তবু এই তদন্ত ও প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব সংসদের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে এবং যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিমোশেঙ্কোর দাবি, তাকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতেই এই তদন্ত। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং কিয়েভ অঞ্চলের বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার সম্পদ জব্দ করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই আদালতের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
















