লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার সিরিয়া ও লেবানন সীমান্তের চারটি পারাপার পথে বোমাবর্ষণের পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং প্রায় বিশজন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সিরিয়া-লেবানন সীমান্তের ওই পারাপার পথগুলো ব্যবহার করে হিজবুল্লাহ অস্ত্র পাচার করছিল। এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলা চালানো হয়। তবে এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যা বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট Joseph Aoun এক বিবৃতিতে বলেন, বসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে বিমান হামলা চালিয়ে ইসরায়েল পরিকল্পিত আগ্রাসনের নীতি অনুসরণ করছে, যা সরাসরি বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানতে ইসরায়েলের অনিচ্ছারই প্রমাণ।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কানারিত শহরে চালানো বিমান হামলায় অন্তত উনিশজন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়, আল খারায়েব, আল আনসার, কানারিত, কেফুর ও জারজুহসহ একাধিক গ্রাম ও শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়েছে। হামলার আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দেশটির ভেতরে হামলার সতর্কবার্তাও দেয়।
এর আগে একই দিনে সাইদা জেলার জাহরানি এলাকায় একটি যানবাহনে হামলায় একজন নিহত হন। পরে তির জেলার বাজুরিয়েহ শহরে আরেকটি যান লক্ষ্য করে হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, সাইদার একটি প্রধান সড়কে পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। কানারিত এলাকায় বড় ধরনের হামলার সময় কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।
ইসরায়েলি বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, তারা সীমান্তের চারটি অস্ত্র পাচার পথ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং দক্ষিণ লেবাননের সাইদা এলাকায় হিজবুল্লাহর এক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র পাচারকারীকে হত্যা করেছে।
লেবানন সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বেসামরিক ভবন ও বাড়িঘরে হামলার নিন্দা জানিয়ে একে দেশের সার্বভৌমত্ব ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। সেনাবাহিনী আরও বলেছে, এ ধরনের হামলা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। যুদ্ধবিরতির পরও চলমান ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত লেবাননে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর হিসাব।
















