বড় দুই দলের লড়াই: ফ্রন্টরানার বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এখন জামায়াত-নাগরিক পার্টি জোট
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো নির্বাচনী জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছে দেশটির বৃহত্তম ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামী। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সুযোগের মুখোমুখি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় এবারের ভোট মূলত একটি দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, আর অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী নির্বাচনী জোট।
আল জাজিরা প্রতিবেদনে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:
- জনসমর্থনের ব্যবধান হ্রাস: মার্কিন ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্থার সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থনের ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। ডিসেম্বরের জরিপে বিএনপির সমর্থন ৩৩ শতাংশ এবং জামায়াতের ২৯ শতাংশ দেখা গেলেও সাম্প্রতিক যৌথ জরিপে তা যথাক্রমে ৩৪.৭ শতাংশ এবং ৩৩.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
- নাটকীয় প্রত্যাবর্তন: বিগত ১৫ বছর দমন-পীড়ন এবং শীর্ষ নেতাদের হারানো জামায়াতের জন্য এই নির্বাচনটি একটি চরম নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান নেতারা দাবি করছেন, দীর্ঘ সময়ের নিপীড়ন তাদের প্রতি জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
- কৌশলী অবস্থান: জামায়াত নিজেকে একটি ‘মধ্যপন্থী ইসলামি শক্তি’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। অমুসলিম ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এবারই প্রথম তারা খুলনায় কৃষ্ণ নন্দী নামে একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
- আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ: একটি ইসলামি দল ক্ষমতায় এলে শরিয়া আইন বা সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ থাকলেও জামায়াত নেতারা বলছেন, তাঁরা বিদ্যমান ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের আওতায় সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন।
নির্বাচনী সমীকরণে জামায়াতের অবস্থান:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ/পরিসংখ্যান |
| প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী | বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। |
| সমর্থক সংখ্যা | প্রায় ২ কোটি সমর্থক এবং ২.৫ লাখ নিবন্ধিত রুকন। |
| মিত্র সংগঠন | ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। |
| পররাষ্ট্র নীতি | ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন। |
| নির্বাচনের তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। |
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি জামায়াতের জন্য জাতীয় গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের একটি ‘অ্যাসিড টেস্ট’। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে জামায়াতের সম্ভাব্য এই উত্থান ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে, যদিও দলটি অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের সংস্কারবাদী ইমেজ তৈরিতে ব্যস্ত।















