ছত্তিশগড়ে রেল পুলিশের হেনস্তার অভিযোগ; ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া
হিন্দি বলতে না পেরে নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলায় ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুর স্টেশনে তিন বাঙালি কিশোরকে ট্রেন থেকে নামিয়ে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি দেশটিতে ভাষাগত বৈষম্য ও অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জীবন-জীবিকার তাগিদে ভিন্ন রাজ্যে কাজে যাওয়ার পথে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের তিন বাঙালি কিশোর। অভিযোগ, ট্রেনের ভেতরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হিন্দি বলতে না পারায় এবং নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলায় তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে ছত্তিশগড়ের রায়পুর স্টেশনে নামিয়ে রাখা হয়।
সংবাদ প্রতিদিনের বরাতে জানা যায়, পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের ঝামটপুর গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক দাস (১৬), রাকেশ দাস ও রতন দাস গত শুক্রবার গুজরাটের সুরাটে একটি রুটির কারখানায় কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। তারা মোট নয়জনের একটি দলের সঙ্গে যাত্রা শুরু করে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় খবর আসে যে রায়পুর স্টেশনে রেল পুলিশের (জিআরপি) সদস্যরা ওই তিন কিশোরকে আটক করেছে। পরিবারের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় হিন্দিতে সঠিকভাবে উত্তর দিতে না পারায় এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই মূলত তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
যদিও একই দলের আরেক সদস্য দাবি করেছেন, কিশোররা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বয়সের বৈধ নথি দেখাতে না পারায় পুলিশ তাদের আটক করেছে। তবে পরিবারগুলোর মতে, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভাষাগত বৈষম্য।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর ভাষাগত নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে। তিনি জানান, প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ করে কিশোরদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
পারিবারিক উদ্বেগ
আটক কার্তিক ও রাকেশ নবম শ্রেণির ছাত্র। দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি সামান্য আয়ের আশায় তারা সুরাটে যাচ্ছিল। মাঝপথে এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় তাদের পরিবার চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ছত্তিশগড় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।
















