দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদারে ঢাকায় আসছে মালদ্বীপের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল
দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রোক্রেডিট মডেল’ ও ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মডেল’ নিজেদের দেশে প্রয়োগের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালদ্বীপ। দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ‘মালদ্বীপ ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (এমএনসিসিআই) মনে করছে, বাংলাদেশের এই সফল মডেল মালদ্বীপের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে এমএনসিসিআই-এর সভাপতি মোহাম্মদ মামদুহ এবং পরিচালনা পর্ষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের প্রধান আলোচনার বিষয়সমূহ:
- ক্ষুদ্রঋণ মডেলের প্রশংসা: মালদ্বীপের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাকে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনের ‘রোল মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁরা এই মডেল মালদ্বীপের স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশে কার্যকর করার পরিকল্পনা করছেন।
- বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতের সাফল্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল এবং গণমাধ্যমকর্মী বাংলাদেশে পাঠানোর ইচ্ছা পোষণ করেছে এমএনসিসিআই।
- ট্রান্সশিপমেন্ট ও লজিস্টিকস: হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম জানান, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রান্সশিপমেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি মালদ্বীপে বাংলাদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
- যৌথ উদ্যোগ: দুই দেশের বেসরকারি খাতের যোগাযোগ বাড়াতে যৌথ বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনী আয়োজনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এক নজরে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক:
| বিষয় | গুরুত্ব ও প্রভাব |
| আর্থিক মডেল | মাইক্রোক্রেডিট ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মডেল অনুসরণ করবে মালদ্বীপ। |
| অবদান | মালদ্বীপের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা। |
| সহযোগিতা | সংকটকালীন মালদ্বীপে পানীয় জল সরবরাহে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা। |
| ভবিষ্যৎ লক্ষ্য | উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর ও বাণিজ্য মেলা আয়োজন। |
মালদ্বীপের ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের শিল্প খাতের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক বন্ধন তৈরির ওপর জোর দেন। এই বৈঠকের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটির মধ্যে সরাসরি বিনিয়োগ ও পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















