নিজস্ব পরিচয়পত্র ও সশস্ত্র পাহারা; র্যাব কর্মকর্তা নিহতের পর বড় অভিযানের প্রস্তুতি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ‘জঙ্গল সলিমপুর’ এখন অপরাধের এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। ৩,১০০ একর সরকারি খাসজমি দখল করে গড়ে ওঠা এই জনপদে রয়েছে নিজস্ব শাসনব্যবস্থা, সশস্ত্র বাহিনী এবং এমনকি বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ‘পরিচয়পত্র’। গত সোমবার সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন নিহত হওয়ার পর এই অপরাধ সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।
২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুর এখন মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। এখানে প্রশাসনের লোক ঢুকলেই সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়। র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে এই সন্ত্রাসী আস্তানা নির্মূল করা হবে।
ভয়ংকর জঙ্গল সলিমপুরের অপরাধ চিত্র:
- সশস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পাস কার্ড: এলাকার প্রবেশপথে সন্ত্রাসীদের সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারা থাকে। এখানকার প্রতিটি বাসিন্দাকে অপরাধী চক্রের দেওয়া বিশেষ ‘পরিচয়পত্র’ বহন করতে হয়, যা ছাড়া ভেতরে প্রবেশ অসম্ভব।
- টর্চার সেল ও অস্ত্র কারখানা: অবাধ্য বাসিন্দাদের জন্য পাহাড়ে রয়েছে গোপন টর্চার সেল। এছাড়া দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে দেশি অস্ত্র তৈরির কারখানা।
- বিশাল ভূমি বাণিজ্য: নব্বইয়ের দশকের শীর্ষ সন্ত্রাসী আক্কাস বাহিনীর মাধ্যমে শুরু হওয়া এই এলাকায় বর্তমানে প্রতিটি প্লট ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাহাড় কেটে ৩০০-৫০০ টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি দখল করা হয়েছে।
- রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর (রোকন, মশিউর, সাদেক ও গফুর বাহিনী) মধ্যে সংঘর্ষে গত ১৭ মাসে কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ইতিহাস:
| তারিখ | ঘটনার বিবরণ |
| ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন নিহত ও ৩ সদস্য আহত। |
| ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ ২০ জন আহত। |
| ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে গেলে পুলিশের ওপর বড় ধরনের হামলা। |
| ২ আগস্ট ২০২২ | জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদকারী দলকে অবরুদ্ধ ও বাধা প্রদান। |
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশপথ এবং কৌশলগত পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের অভিযান কেবল উচ্ছেদ নয়, বরং সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে সমূলে উৎপাটন করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হবে।
















