খাবারে মরিচ ব্যবহার বা সালাদে ড্রেসিং দেওয়া কেবল স্বাদই বাড়ায় না, এটি আমাদের শরীরকে ভিটামিন এবং খনিজ শোষণে সাহায্য করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন।
কালো মরিচ বহু হাজার বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি প্রথম চাষ করা হয়েছিল প্রায় ৩,৫০০ বছর আগে ভারতের স্থানীয় উদ্ভিদ থেকে এবং প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান পণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে শুধু স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি কালো মরিচ খাবারের পুষ্টি শোষণ বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। মরিচে এমন একটি রাসায়নিক থাকে যা ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রক্তপ্রবাহে সহজে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
দুধ এবং জলপাই তেলে থাকা ক্ষুদ্র চর্বির কণাও শরীরকে পুষ্টি গ্রহণে সহায়তা করে। বিজ্ঞানীরা এই প্রভাব ব্যবহার করে নতুন ধরনের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার তৈরি এবং পুষ্টি শোষণে সমস্যায় পড়া মানুষের জন্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
খাবারের পুষ্টি শোষণের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যে ভিটামিন এবং খনিজ উপাদানগুলো খাদ্যের জটিল কাঠামো থেকে মুক্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মিষ্টি ভুট্টার বাইরের মোমযুক্ত আবরণ শরীরের জন্য ভাঙা কঠিন, তাই সঠিকভাবে চিবিয়ে না খেলে অনেক পুষ্টি আমাদের শরীর গ্রহণ করতে পারে না।
তেল-দ্রবণীয় ভিটামিন যেমন এ, ডি, ই এবং কে পুষ্টি শোষণে সাহায্য পেতে চর্বি প্রয়োজন। ভিটামিনের সঙ্গে কিছু চর্বি খেলে, চর্বি ক্ষুদ্র ন্যানো কণার আকার ধারণ করে ভিটামিনকে বহন করে এবং এটি শেষ পর্যন্ত রক্তে পৌঁছে যায়।
যেসব মানুষ ম্যালঅ্যাবসোর্পশন সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ আরও কঠিন। যেমন ক্রোন রোগ, সেলিয়াক রোগ, বা দীর্ঘমেয়াদি প্যানক্রিয়াটাইটিসে শরীর প্রয়োজনীয় এনজাইম বা পিত্ত নিঃসরণ করতে পারে না। এই ক্ষেত্রে, ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া প্রয়োজনীয় হতে পারে। তবে সাপ্লিমেন্ট থেকে ভিটামিন শোষণ সবসময় সহজ নয়। এজন্য বিজ্ঞানীরা ন্যানোপার্টিকেল ব্যবহার করে ভিটামিনের শোষণ বাড়ানোর নতুন পদ্ধতি পরীক্ষা করছেন।
অ্যালবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, পিস প্রোটিনের তৈরি ন্যানোপার্টিকেলের সঙ্গে ভিটামিন ডি সংযুক্ত করলে শোষণ বাড়ে। মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডেভিড জুলিয়ান ম্যাকক্লেমেন্টসের গবেষণায় দেখা গেছে, ন্যানো আকারের চর্বির সঙ্গে ভিটামিন এ প্রিকোর্সার বেটা ক্যারোটিন খেলে শোষণ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
কালো মরিচও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অন্ত্রের কোষে থাকা ট্রান্সপোর্টারকে বাধা দেয়, ফলে আরও বেশি ভিটামিন বা ক্যারোটিন রক্তে প্রবেশ করতে পারে। প্রাচীন ভারতীয় খাবার যেমন হলুদ-দুধে কালো মরিচ ব্যবহার করাও একই সূত্র অনুসরণ করে।
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সালাদের সঙ্গে জলপাই তেল ব্যবহার করলে ক্যারোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শোষণ আরও বাড়ে। এটি হয়তো কারণ, জলপাই তেল বড় ন্যানোপার্টিকেল তৈরি করে যা ভিটামিন বহনে সক্ষম। তুলনায় নারকেল তেল ছোট মাইসেল তৈরি করে যা ভিটামিন বহনে অক্ষম।
সুতরাং, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সঠিক ড্রেসিং বা তেলের ব্যবহার আমাদের শরীরের পুষ্টি গ্রহণকে অনেকাংশে বাড়াতে পারে।
















