বেইজিং: পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বের প্রথম হাইব্রিড পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছে চীন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশের লিয়ানইউনগাং শহরে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো একই স্থানে দুটি ভিন্ন ধরনের পারমাণবিক প্রযুক্তির সমন্বয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে হুয়ালং ওয়ান প্রেসারাইজড ওয়াটার রিয়্যাক্টর এবং উচ্চ তাপমাত্রার গ্যাস কুলড রিয়্যাক্টর একসঙ্গে ব্যবহার করা হবে। এ ধরনের হাইব্রিড পারমাণবিক স্থাপনা আগে বিশ্বের কোথাও নির্মিত হয়নি।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এই কেন্দ্র শিল্পকারখানার জন্য উচ্চমানের বাষ্প সরবরাহ করবে। ফলে এটি শুধু বিদ্যুৎ নয়, শিল্প জ্বালানির চাহিদাও পূরণ করতে সক্ষম হবে।
শুক্রবার নিউক্লিয়ার ইউনিট ওয়ানের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি দুই ধাপে বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে চলমান প্রথম ধাপে দুটি হুয়ালং ওয়ান রিয়্যাক্টর ইউনিট এবং একটি উচ্চ তাপমাত্রার গ্যাস কুলড রিয়্যাক্টর ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে।
হুয়ালং ওয়ান হলো চীনের নিজস্বভাবে উন্নয়ন করা তৃতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি, যা চায়না জেনারেল নিউক্লিয়ার পাওয়ার গ্রুপ এবং চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশন যৌথভাবে তৈরি করেছে। অন্যদিকে উচ্চ তাপমাত্রার গ্যাস কুলড রিয়্যাক্টর চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যা বেশি দক্ষতা ও উন্নত নিরাপত্তা সুবিধা দেয়।
কেন্দ্রটি চালু হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বছরে প্রায় ৭ দশমিক ২৬ মিলিয়ন টন কয়লার ব্যবহার কমবে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পাবে প্রায় ১৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন। এতে লিয়ানইউনগাং পেট্রোকেমিক্যাল বেস এবং আশপাশের শিল্প এলাকায় স্বল্প কার্বন উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে।
জানা গেছে, শুয়েই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ধাপ ২০৩২ সালে বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
















