ঢাকা: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে আবারও বড় ধরনের রদবদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই গুরুত্বপূর্ণ লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে নতুন ও প্রভাবশালী দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, যা প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে চিফ অব জেনারেল স্টাফ পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজুর রহমান তখন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব নিতে পারেন।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। ওই পদে দায়িত্ব পালনকালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসান পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো এবং বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাকিস্তান সফরের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
এই রদবদলের প্রক্রিয়া চলাকালে ঢাকায় অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর একাধিক প্রতিনিধি দল। একটি দলে থাকা একজন মেজর ও একজন ক্যাপ্টেন ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন এবং সোমবার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। তারা হলেন মেজর ভিসেন্তে বি সামানিয়েগো ও ক্যাপ্টেন ব্রিটানি জে হোয়াইটহেড। পাশাপাশি আরও একটি পাঁচ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধি দল ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় আসে, যারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে টাইগার লাইটনিং এক্সারসাইজ ২০২৬ এর প্রাথমিক পরিকল্পনা বৈঠকে অংশ নিচ্ছে।
এদিকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমানকে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেলের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া জাতিসংঘ মিশন শেষে এক ব্রিগেডিয়ার দেশে ফিরলে আরও অন্তত চারজন জিওসির বদলি হতে পারে বলে জানা গেছে। ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পেতে পারেন।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে শোনা যাচ্ছে, ডিজিএফআই মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমকেও অন্য দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই রদবদলকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসান চিফ অব জেনারেল স্টাফ হলে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে বলে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এর আগে চিফ অব জেনারেল স্টাফ পদে ছিলেন জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ওই দায়িত্ব নেন এবং পরে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শহীনুল হক শিগগিরই অবসর-পূর্ব ছুটিতে গেলে এই রদবদলের পথ আরও সহজ হবে। একইভাবে বর্তমান চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীমও নির্ধারিত সময়ের আগেই অবসর-পূর্ব ছুটিতে যেতে পারেন। তাঁর জায়গায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসান দায়িত্ব নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
















