শহীদ ও আহতদের পরিবারের কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব; মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীনেই হবে নতুন ডিপার্টমেন্ট
ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। তারেক রহমান জানান, বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীনেই এই বিশেষ বিভাগটি কাজ করবে, যার মূল লক্ষ্য হবে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং স্থায়ী দেখভাল নিশ্চিত করা। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে শহীদ পরিবারের কষ্ট লাঘবে এটি বিএনপির একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি মাঠের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, তখন ‘জুলাই বিপ্লবের’ চেতনাকেন্দ্রিক এই ঘোষণা দিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করলেন বিএনপি প্রধান।
জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে বিএনপির রূপরেখা
মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান তাঁর দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েকটি প্রধান দিক তুলে ধরেন:
- আলাদা ডিপার্টমেন্ট গঠন: মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কাঠামোতে পরিবর্তন এনে জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি নিবেদিত বিভাগ তৈরি করা হবে।
- শহীদ পরিবারের অগ্রাধিকার: জুলাই মাসে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা হবে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
- চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: আহত যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে।
জনগণের সমর্থনের ওপর আস্থা
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন:
১. সরকার গঠনের সক্ষমতা: “ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হবে।”
২. কষ্ট লাঘবের অঙ্গীকার: তিনি বলেন, “শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা তাঁদের কষ্টগুলো কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারব।”
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের এই ঘোষণাটি মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের সেই তরুণ ও সাধারণ মানুষের সমর্থন লাভের একটি কৌশলগত প্রয়াস। বিশেষ করে যারা বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন চান, তাঁদের কাছে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য বিশেষ বিভাগ গঠনের প্রস্তাবটি বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
















