দামেস্ক – সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা কুর্দি জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন অধিকার নিশ্চিত করে একটি ডিক্রি জারি করেছেন। এই ডিক্রির মাধ্যমে কুর্দি ভাষাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং কুর্দি সিরীয়দের নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করা হয়েছে। ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার পর এই প্রথম সিরিয়ায় কুর্দিদের জাতীয় অধিকার স্বীকৃতি পেল।
শুক্রবার জারি করা এই ডিক্রি আসে উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর। গত সপ্তাহে সেখানে সহিংসতায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয় বলে সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সংঘর্ষের কারণে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত দুই এলাকায় বসবাসকারী কয়েক দশ হাজার মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পরে কুর্দি যোদ্ধারা সরে গেলে আলেপ্পোর দেইর হাফার শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় সিরীয় সেনাবাহিনী।
ডিক্রিতে বলা হয়েছে, কুর্দি পরিচয় সিরিয়ার জাতীয় কাঠামোর অংশ হিসেবে স্বীকৃত হবে। আরবির পাশাপাশি কুর্দি ভাষাকেও জাতীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুর্দি ভাষা পড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ১৯৬২ সালে হাসাকা প্রদেশে করা এক বিতর্কিত জনগণনার কারণে যেসব কুর্দি নাগরিকত্ব হারিয়েছিলেন, সেই সব সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। আগে যাদের রাষ্ট্রহীন হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছিল, তাদেরসহ সবাইকে আবার সিরিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
ডিক্রিতে বসন্ত ও নববর্ষ উৎসব নওরোজকে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিগত ও ভাষাগত বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় বার্তা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ালে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের কুর্দি প্রশাসন ডিক্রির প্রতিক্রিয়ায় জানায়, এটি একটি প্রথম পদক্ষেপ হলেও এটি পুরোপুরি সিরীয় জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে না। তারা বলে, জনগণের অধিকার অস্থায়ী ডিক্রির মাধ্যমে নয়, বরং স্থায়ী সংবিধানের মাধ্যমেই সুরক্ষিত হওয়া উচিত।
এর মধ্যে শনিবার আলেপ্পোর বাইরে দেইর হাফার শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিরীয় সেনাবাহিনী। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস সেখান থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেনারা এলাকায় প্রবেশ করে।
সিরিয়ার সরকার বাশার আল আসাদ অপসারণের পর দেশজুড়ে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। অপরদিকে এসডিএফ দেশটির তেলসমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে তারা দীর্ঘদিন আইএসবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেয়।
গত বছর সরকার ও এসডিএফের মধ্যে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা হলেও অগ্রগতি হয়নি। সেই অচলাবস্থাই পরে আলেপ্পোর সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সিরিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ কুর্দি বাস করে বলে ধারণা করা হয়। তুরস্ক সিরিয়ার সরকারের প্রধান মিত্র হলেও তারা এসডিএফ ও সংশ্লিষ্ট কুর্দি সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে, যাদের সঙ্গে নিষিদ্ধ পিকেকে সংগঠনের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।















