নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের গণমাধ্যম সম্মিলনে প্রথম আলো সম্পাদকের আহ্বান; সকল মতাদর্শের সাংবাদিকদের একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ।
সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার স্বার্থে সকল মতাদর্শের সংবাদকর্মীদের মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত গণমাধ্যম সম্মিলনে তিনি বলেন, অতীতে কোনো সরকারই স্বাধীন সাংবাদিকতাকে সহজভাবে নেয়নি।
যেকোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা ভিন্নমত থাকলেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমেই স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত হবে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সম্মিলন’-এ তিনি এসব কথা বলেন। নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সম্মিলনে পত্রিকা, অনলাইন, টেলিভিশন ও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে উপস্থিত হওয়াকে বড় অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, “বিগত ৫৫ বছর বা ১৫ বছরের মধ্যে এটি একটি বড় ভাবনা ও চিন্তার প্রতিফলন। যে মত বা আদর্শেরই হোক না কেন, সাংবাদিকতা ও নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের ঐক্য ও সমঝোতা থাকতে হবে।”
নিজের ৫৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মতিউর রহমান বলেন, “১৯৭৫ সালে সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া ছিল একটি বড় স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ। এরপর সামরিক শাসন বা গণতান্ত্রিক শাসন—সব আমলেই আমাদের ছোট-বড় তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। কোনো সময়ই সরকারগুলো আমাদের ওপর ডিক্লারেশন বন্ধ বা নানাভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা থেকে বিরত থাকেনি।”
তিনি প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্বাচিত সরকার আসলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। অতীতেও এটি হয়নি, ভবিষ্যতেও হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
সম্মিলনে অন্যান্য বক্তারাও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করেন। মতিউর রহমান তার বক্তব্যে ঐক্য, সমঝোতা এবং সংহতিকে আগামী দিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, দেরিতে হলেও এই বিতর্কগুলো শুরু হওয়া এবং পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া ইতিবাচক।
সম্মিলনে আরও বক্তব্য রাখেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরসহ গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।













