রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তওয়ের আশপাশে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করায় দেশটির সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও জান্তা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তাদের নেপিডো ও ইয়াঙ্গুনে পাঠানো হয়েছে।
সিত্তওয়ের এক বাসিন্দা জানান, Arakan Army–এর হামলা ক্রমেই শহরের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের কাছাকাছি চলে আসায় জান্তা বাহিনীর হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এরই প্রেক্ষিতে সেনা ও সরকারি কর্মকর্তাদের স্বজনদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সামরিক যানযোগে তাদের বিমানবন্দরে নেওয়া হতে দেখা গেছে। সঙ্গে ছিল বিভিন্ন মালামাল। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
খবরে বলা হয়, সিত্তওয়ের চারপাশের এলাকা কার্যত ঘিরে ফেলেছে Arakan Army এবং শহর ও আশপাশে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সিত্তওয়ে থেকে দেশের অন্যান্য অংশে সরাসরি যাতায়াতের একমাত্র উপায় বিমান, আর অধিকাংশ মানুষই এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
সংঘর্ষ বাড়তে থাকায় সিত্তওয়ের বাসিন্দা ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, সকালে অনেক দোকানি কম দামে পণ্য বিক্রি করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা দ্রুত ইয়াঙ্গুনে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দরিদ্র মানুষজনের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে, কারণ শহরের কাছেই লড়াই চলায় তারা স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না।
চলতি জানুয়ারির শুরু থেকে Arakan Army সিত্তওয়ে টাউনশিপের তাওকান ও গাঙ্গাও কিউন এলাকার কাছে অবস্থিত প্রতিরক্ষা চৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। এসব এলাকা আঞ্চলিক সামরিক সদর দপ্তরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুক্রবার তীব্র লড়াইয়ের পর দুটি চৌকির নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
রাখাইন রাজ্যের মোট ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে Arakan Army। এখনও সিত্তওয়ে, কিয়াউকফিউ ও মান আউং তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। তবে এসব শহর দখলের লক্ষ্যেই সিত্তওয়ে ও কিয়াউকফিউতে নতুন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
















