আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে ৬ জানুয়ারি আসামিপক্ষ সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলেও ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, এই দুই আসামির নির্দেশনায় রংপুরে আবু সাঈদসহ ১ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয় এবং ইমরান হোসেনসহ অন্তত ২৫ হাজার জন গুরুতর আহত হন।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় সিফাত হাওলাদারকে হত্যা এবং বহু ছাত্র–জনতাকে গুলিবিদ্ধ করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২৮ জুলাই মিরপুর–১০ এলাকায় আখতারুজ্জামান নিহত হন এবং আরও বহু মানুষ আহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষ এই ঘটনাগুলোকে পরিকল্পিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেছে।
এই মামলাটি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
















