ট্রাম্প শুল্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ধাক্কা, টানা পাঁচ মাস নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বাংলাদেশের প্রায় সব প্রধান বাজারেই তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে গেছে—ব্যতিক্রম কেবল কানাডা ও যুক্তরাজ্য।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প এখন তীব্র চাপের মুখে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কানাডা ও যুক্তরাজ্য ছাড়া প্রায় সব বড় বাজারেই পোশাক রপ্তানি কমেছে। এর ফলে সামগ্রিক রপ্তানি আয় টানা পাঁচ মাস ধরে নেতিবাচক ধারায় রয়েছে।
দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র—যেখান থেকে আসে প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানি আয়। দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার জার্মানি, যার অংশ প্রায় ১০ শতাংশ। কিন্তু এই দুই বাজারেই এবার বড় ধাক্কা লেগেছে।
জার্মানিতে চলতি অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ কম। একই সময়ে ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে নেমে ৯৭ কোটি ১৮ লাখ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় বাজারের ক্রেতারা এখন দামে অত্যন্ত সংবেদনশীল। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু ক্রেতারা দাম কমানোর চাপ দিচ্ছেন। ফলে অর্ডার থাকলেও লাভ কমে যাচ্ছে।
নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহার সারা বিশ্বের রপ্তানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পড়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের আগে সাধারণত অর্ডার কিছুটা কমে—এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, “আমাদের প্রধান দুই বাজার—আমেরিকা ও ইউরোপ—দুটিতেই রপ্তানি ধাক্কা খেয়েছে। এতে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে পড়েছে।”
রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী মাসগুলোতেও এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
















