রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণে গণমাধ্যমের রূপান্তর ও ‘ন্যারেটিভ’ পরিবর্তনের বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটি জনস্বার্থের চেয়ে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে অধিকতর সংবেদনশীল। বিশেষ করে ১/১১-এর সময় থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রধান ধারার সংবাদপত্রগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের চিত্রটি অত্যন্ত প্রকট।
গবেষক তাইয়িব আহমেদের মতে, বাংলাদেশের মিডিয়া মূলত ‘পলিটিক্যাল প্যারালেলিজম’-এর ফাঁদে বন্দি, যেখানে অধিকাংশ হাউস কোনো না কোনো রাজনৈতিক শক্তির সাথে যুক্ত। ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর মতো প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ‘ন্যারেটিভ’ তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল। সে সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়াই শিরোনামে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা দেখা যেত। একইভাবে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও জনকণ্ঠ-এর মতো পত্রিকাগুলো বিএনপিকে ‘জঙ্গিবাদী’ বা ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে চিত্রায়িত করলেও, ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে তারা এখন সেই একই নেতৃত্বকে ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরছে।
বিশ্লেষণ বলছে, বাংলাদেশের সংবাদপত্রের এই কাঠামোগত দুর্বলতার মূলে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ: রাজনৈতিক মালিকানা, রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপনের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি। ফলে সংবাদ অনেক ক্ষেত্রেই জনস্বার্থের বাহন না হয়ে ক্ষমতার হাতিয়ারে পরিণত হয়। গণমাধ্যমের এই ‘সেকাল-একাল’ আসলে সাংবাদিকতার পেশাদারিত্বের বিবর্তন নয়, বরং ক্ষমতার প্রতি আনুগত্য পরিবর্তনের একটি রেকর্ড মাত্র। সত্যিকার গণতন্ত্রের স্বার্থে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে স্বাধীন একটি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কাঠামো গড়ে তোলা, যা ক্ষমতার বলয় থেকে মুক্ত থেকে সত্য প্রকাশ করতে পারবে।
















