দুদক অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য; স্ত্রী ও শ্যালকের নামে ৩৫টি ফ্ল্যাটের সন্ধান
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের তকমা দিয়ে দুটি ইসলামি এনজিওর এক হাজার কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে মনিরুল ইসলাম কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামক দুটি এনজিওর নিয়ন্ত্রণ নেন। এনজিও কর্মকর্তাদের ‘জঙ্গি’ সাজিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে তিনি বিদেশ থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন তহবিলের প্রায় ১০০০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লুট করেন। এই বিপুল অর্থ তিনি নিজের নামে না রেখে স্ত্রী সায়লা ফারজানা (সাবেক অতিরিক্ত সচিব), শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালিকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন। দুদকের তদন্তে মনিরুলের স্ত্রী ও শ্যালকের নামে ৩৫টি অভিজাত ফ্ল্যাট, এফডিআর এবং ডিপিএস-এর সন্ধান পাওয়া গেছে। শ্যালক শাহীনের ব্যাংক হিসাবে ২৮৮ কোটি টাকা জমার প্রমাণ মিলেছে, যা মূলত এনজিওর অর্থ থেকে পাচার করা হয়েছিল।
গত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী বর্তমানে ভারতে পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ডিএমপিতে কর্মরত থাকাকালে তিনি ‘জঙ্গি নাটকের’ মূল হোতা ছিলেন এবং এর আড়ালে বিপুল সম্পদ গড়েছেন। দুদক জানিয়েছে, ব্যাংকিং লেনদেনের সব নথি সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই মানিলন্ডারিং আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে তিনি ভারতের ত্রিপুরার একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। স্বৈরাচারী শাসনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতির আমলনামা এখন চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায়।
















