ফোর্সেস গোল ২০৩০: আকাশসীমা রক্ষায় আধুনিকায়নের পথে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাকিস্তান থেকে অত্যাধুনিক জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder) ব্লক-৩ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদন ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের ইসলামাবাদ সফরের সময় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ (Forces Goal 2030) পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্ভাব্য ৪৮টি জেএফ-১৭ ব্লক-৩ যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। বর্তমানে বিমানবাহিনীর পুরোনো চীনা এফ-৭ এবং রুশ মিগ-২৯ বিমানগুলোর স্থলাভিষিক্ত করতেই এই উদ্যোগ। পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (PAC) এবং চীনের চেঙ্গদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন (CAC) যৌথভাবে এই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি তৈরি করেছে। প্রতিটি বিমানের দাম প্রায় ২৫-৩২ মিলিয়ন ডলার, যা রাফায়েল বা ইউরোফাইটারের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।

কৌশলগতভাবে এই ক্রয় বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেএফ-১৭ ব্লক-৩ সংস্করণে রয়েছে অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার এবং পিএল-১৫ (PL-15) এর মতো দূরপাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, যা আকাশপথে শত্রু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রতিবেশী মিয়ানমার ইতোমধ্যে ১৬টি জেএফ-১৭ ব্যবহার করছে, তাই আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় এটি বিএএফ-এর জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ অনেক সহজ ও দ্রুত হবে। তবে এই চুক্তির খবরে ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হতে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের আকাশসীমাকে আরও সুরক্ষিত করবে।















