২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় উত্তপ্ত শুনানি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য ঘিরে বিচারকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষ তিনটি অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুনানির একপর্যায়ে জুনাইদ আহমেদ পলকের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম লিটন আহমেদ জানান, আসামির সঙ্গে কারাগারে ‘প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন’ করতে গিয়ে ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ নিতে দেওয়া হয়নি, অথচ ভিডিও ও অডিও প্রমাণ দেখিয়ে মামলার অব্যাহতির বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এ কারণে তিনি আদালতের কাছে এসব ডিভাইস নিয়ে সাক্ষাতের অনুমতি চান।
এই প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আদালতে মন্তব্য করেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন—নির্বাচন হলে এই বিচার প্রক্রিয়া থেমে যাবে। এই বক্তব্যের পর বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ চিফ প্রসিকিউটরকে প্রশ্ন করেন,
“নির্বাচন হলে কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে?”
চিফ প্রসিকিউটর উত্তরে বলেন, তিনি আসামিদের মনোভাবের কথা বোঝাতে চেয়েছেন। তবে আদালত তাকে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়।
এরপর ট্রাইব্যুনাল মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদনের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের শুনানির দিন ধার্য করে।
এই মামলায় অভিযোগ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধসহ রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়নের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল।
















