বাংলাদেশে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি পুরুষ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে তারা প্রস্তুত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, টুর্নামেন্ট আয়োজকদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর তিন দিন আগে বিসিবি জানিয়েছিল, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ দল প্রতিবেশী দেশ ভারতে সফর করবে না। তবে সর্বশেষ বিবৃতিতে বোর্ড জানায়, আইসিসি তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিসিবির মতামত অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইসিসি পুরুষ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এ বাংলাদেশের দলের অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন ও সফল করতে বিসিবি গঠনমূলক, পেশাদার ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে, যাতে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যায়।
মঙ্গলবার আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া ২০ দলের এই বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করছে। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই ভারতের ভেন্যুতে নির্ধারিত ছিল।
ভারতে যেতে অনীহার পেছনে সাম্প্রতিক এক বিতর্ক বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগে তার দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া হয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ক্রিকেটপ্রেমী ও ক্রীড়া সংগঠকরা বিসিবিকে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর পরই বিসিবি নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে আইসিসির কাছে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানায় এবং জানায়, দল ভারতে যাবে না।
দুই দিনের নীরবতার পর আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে আলোচনা হয়। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ শুরু হতে তখন এক মাসের একটু বেশি সময় বাকি ছিল। এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বৈঠকে আইসিসি বাংলাদেশকে জানায় যে ভারতে না গেলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
তবে বিসিবি এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, কিছু গণমাধ্যমে আলটিমেটাম দেওয়ার যে কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং আইসিসির সঙ্গে হওয়া যোগাযোগের প্রকৃত চিত্রকে প্রতিফলিত করে না।
এর আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন তারকা খেলোয়াড়কে যেভাবে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তা অযৌক্তিক এবং এতে সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা এখন ক্রিকেট সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন বাংলাদেশে এক তরুণ হিন্দু ব্যক্তিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা ও দাহ করার ঘটনা ঘটে। এর কয়েক দিন পর ভারতে কট্টরপন্থী কিছু গোষ্ঠী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা চালায়।
গত বছরের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ঢাকা ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক চাপের মুখে পড়ে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সমর্থনসহ নানা বিষয় বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী।
















