ডেনমার্কভিত্তিক খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেগো শব্দ আলো ও নড়াচড়ার প্রতিক্রিয়ায় কাজ করতে সক্ষম নতুন প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ব্রিক উন্মোচন করেছে। লেগোর দাবি, এই স্মার্ট ব্রিক শিশুদের খেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। তবে খেলাধুলা ও শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এতে শিশুদের কল্পনাশক্তিনির্ভর খেলাধুলার মৌলিক বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো ২০২৬ এ লেগো তাদের নতুন স্মার্ট প্লে সিস্টেম ঘোষণা করে। এই ব্যবস্থায় ঐতিহ্যবাহী প্লাস্টিক ব্লকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইলেকট্রনিক উপাদান। মার্চ মাসে স্টার ওয়ার্স থিমের একটি সেট দিয়ে স্মার্ট ব্রিক বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। লেগোর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় উদ্ভাবন।
তবে শিশু কল্যাণ সংগঠন ফেয়ারপ্লের নির্বাহী পরিচালক জশ গলিন বলেন, স্মার্ট ব্রিক লেগোর সেই বৈশিষ্ট্যকে দুর্বল করতে পারে, যা শিশুদের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে খেলতে শেখায়। তার মতে, লেগো খেলায় শব্দ বা আলাদা প্রযুক্তিগত প্রভাব যোগ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ শিশুরা নিজেরাই কল্পনার মাধ্যমে শব্দ ও গতি তৈরি করতে পারে।
এডিনবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও প্রযুক্তি বিষয়ের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ম্যানচেসও মনে করেন, লেগোর সৌন্দর্য এর সরলতায়, যেখানে শিশুরা সহজ ব্লক ব্যবহার করে অসীম গল্প ও ধারণা তৈরি করতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, শারীরিক ও ডিজিটাল খেলাকে একত্র করার লেগোর প্রচেষ্টাও ইতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারে, যদি তা শিশুদের স্বাভাবিক খেলাধুলার ধরনকে সহায়তা করে।
লেগোর প্রধান পণ্য ও বিপণন কর্মকর্তা জুলিয়া গোল্ডিন এর আগে জানিয়েছিলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিকে তারা হুমকি নয় বরং শারীরিক খেলাকে বিস্তৃত করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। তার মতে, স্মার্ট পণ্যগুলো শারীরিক খেলনার সঙ্গে প্রযুক্তিকে স্বাভাবিকভাবে যুক্ত করবে।
লেগোর স্মার্ট ব্রিক আকারে ২ বাই ৪ ব্লকের মতো হলেও এর ভেতরে রয়েছে সেন্সর আলো শব্দ তৈরির ব্যবস্থা অ্যাকসেলরোমিটার এবং বিশেষভাবে তৈরি সিলিকন চিপ। এগুলো নড়াচড়া অবস্থান ও দূরত্ব শনাক্ত করতে পারে। স্মার্ট ব্রিকের সঙ্গে স্মার্ট মিনিফিগার ও স্মার্ট ট্যাগ নামের আলাদা উপাদানও যুক্ত রয়েছে, যেগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
প্রদর্শনীতে পরীক্ষামূলকভাবে দেখানো হয়, একটি লেগো জন্মদিনের কেক তার মোমবাতি নিভে গেলে অভিনন্দন ও জন্মদিনের গান বাজাতে পারে। আবার একটি লেগো হেলিকপ্টার নড়াচড়া করলে উড়ার শব্দ করে এবং পড়ে গেলে লাল আলো জ্বলে ওঠে।
লেগোর ক্রিয়েটিভ প্লে ল্যাবের প্রধান টম ডোনাল্ডসন বলেন, এই প্রযুক্তির লক্ষ্য শিশুদের কাজের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানো এবং তাদের খেলায় নতুন অনুপ্রেরণা যোগানো। তার মতে, এই প্ল্যাটফর্ম বহু বছর ধরে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির খরচ ও আকার কমে আসায় খেলনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি যুক্ত করা সহজ হয়েছে। তবে একই সঙ্গে স্মার্ট খেলনার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে যেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এর আগেও লেগো ডিজিটাল পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে তারা অগমেন্টেড রিয়ালিটি অ্যাপ চালু করেছে এবং ভিডিও গেম নির্মাতাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছে।
লেগোর প্রধান নির্বাহী নিলস বি ক্রিশ্চিয়ানসেন ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কোম্পানির কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে ধরে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে।
















