মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে জান্তা বাহিনী ও বিপ্লবী শক্তির মধ্যে মোট ৭ হাজার ১৩৯টি সংঘর্ষ হয়েছে। এসব লড়াইয়ে জান্তা বাহিনীর ৯ হাজার ৫৪৯ জন সদস্য নিহত, আহত বা আটক হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এনইউজির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২ জানুয়ারি প্রকাশিত বার্ষিক সামরিক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘর্ষগুলোতে জান্তা বাহিনীর ৫ হাজার ৬৯৯ জন সদস্য নিহত এবং ২ হাজার ৭২৬ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১ হাজার ১২৪ জন সেনা বন্দি হিসেবে আটক হন। সব মিলিয়ে নিহত, আহত ও আটক মিলিয়ে মোট ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫৪৯।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্য মিয়ানমারের আনইয়ার অঞ্চল ও সিত্তাউং নদী অববাহিকায় পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) ও পিপলস ডিফেন্স অর্গানাইজেশন (পিডিও) পরিচালিত ২ হাজার ৯৮৪টি অভিযানের মধ্যে ১ হাজার ৩৮৬টি ছিল বড় ধরনের সংঘর্ষ। এছাড়া গেরিলা হামলা ও স্থলমাইন বিস্ফোরণের মতো ৮০৭টি ছোট অভিযান চালানো হয়। কেবল ড্রোন ব্যবহার করে পরিচালিত হামলার সংখ্যা ছিল অন্তত ৭০১টি।
এনইউজি জানায়, ২০২৫ সালে তাদের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নকে সহায়তা দিতে ৩৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন কিয়াত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। ২০২৩ সালে এই সহায়তার পরিমাণ ছিল ২৫ বিলিয়ন কিয়াত এবং ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন কিয়াতে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুইজন মেজরসহ মোট ৫৩৬ জন জান্তা সেনা বিদ্রোহ করে জনগণের পক্ষে যোগ দিয়েছেন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এনইউজি ও তাদের মিত্র বাহিনী সারা দেশে সম্পূর্ণভাবে ৩৭টি টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আরও ৪১টি টাউনশিপ ঘিরে রেখে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
এনইউজির দাবি অনুযায়ী, মানসি, ফালাম, ইনডাও, বানমাউক ও মাউ তাউংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো পুরোপুরি দখলে এসেছে। পাশাপাশি ভামো, কিয়াউকপিউ, হপাপন, কাথা ও সিনফিউকইয়ুনে তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
তবে এসব সাফল্যের মধ্যেও এনইউজি স্বীকার করেছে, গোলাবারুদের ঘাটতি এবং দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমাত্রার সংঘর্ষে জড়িত যোদ্ধাদের বিশ্রামের সুযোগ না পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে কিছু পরিকল্পিত অভিযান বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি এবং কয়েকটি শহরে কৌশলগতভাবে পিছু হটতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এনইউজি রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল আরও সুসংহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক পর্যায় থেকে শুরু করে সারাদেশে মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
















