বিদ্যমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে দেশে সৌরবিদ্যুতের সার্বিক উৎপাদন ও ব্যবহার বহুগুণে বৃদ্ধির বিশেষ সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে সৌরশক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা, নানা প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে ত্বরাান্বিত করার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ-২০২৬’ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে সাধারণ গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কিনে নেওয়ার আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বর্তমান সরকারের নানা জনমুখী কার্যক্রমের সাফল্য ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। প্রেস ব্রিফিংকালে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট সামাল দিতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ অত্যন্ত কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই সরকার যতটা সম্ভব বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির ওপর নিজস্ব নির্ভরতা বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সম্প্রতি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী নিজে সশরীরে উপস্থিত থেকে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব দেশবাসীর সামনে বিশদভাবে তুলে ধরেছেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মূল উৎপাদন ও দৈনন্দিন ব্যবহার বহুগুণে বাড়ানো, বিশাল বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করার মূল উদ্দেশ্যে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ অনুমোদন ও গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ খাতকে জনপ্রিয় করতে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় গ্রিডে সরবরাহকৃত অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দামে সরাসরি কিনে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত ও বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, বেসরকারি খাত ও তরুণ উদ্যোক্তাদের এতে নতুন করে উৎসাহিত করা এবং দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে কোনো প্রকার নিজস্ব মূলধন ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের অর্থায়নে সৌর প্যানেল স্থাপনের আধুনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মূলত পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক বা ‘অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার’ (ওপেক্স) মডেলকে অগ্রাধিকার দিয়ে উৎসাহিত করছে সরকার।
এবারের সোলার এক্সপোর মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’ কথাটি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন নিজ বাসাবাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব, অন্যদিকে নিজের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে সাধারণ গ্রাহকেরা নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ আয়ও করতে পারবেন। আগামী দিনে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকেই নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে স্থায়ী সমাধান হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ওপর আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন।
তিনি যুক্ত করেন, চলমান সোলার এক্সপো প্রদর্শনীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নানা কারিগরি ও নীতিগত বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে সেসব সেমিনারের আলোচনা ও বিশেষজ্ঞ দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে সরকার আগামী দিনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে। পরিশেষে তিনি বলেন, আমাদের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট স্থায়ীভাবে মোচন করতে সৌরবিদ্যুৎ একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি করেছে।






















