দক্ষিণ চীনের ইউনান প্রদেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামাতে শনিবার যে যুদ্ধবিরতিতে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল, সেটিকে আরও সুসংহত করতেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে বেইজিং।
সোমবার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সীমান্তে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষে দুই দেশে শতাধিক মানুষ নিহত এবং পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই সহিংসতা বন্ধ করতেই দুই দিনের আলোচনা আয়োজন করা হয়।
বৈঠক শেষে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সব সমস্যার সমাধান হয়নি, তবে সঠিক দিকেই অগ্রগতি হচ্ছে এবং এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, কেউই আর অতীতের সংঘর্ষে ফিরে যেতে চায় না। তাই এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী করতে হলে তা কঠোরভাবে মানতে হবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক বিবৃতিতে জানান, আলোচনা ছিল ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা অর্জিত হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংকক ও নম পেন রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন, সম্পর্কের উন্নতি এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে কাজ করবে।
তবে আলোচনার ইতিবাচক বার্তার মাঝেই নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিয়েছে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও কম্বোডিয়া সীমান্তে ড্রোন উড়িয়েছে। থাই সেনাবাহিনীর দাবি, রোববার রাতে ২৫০টির বেশি ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের শামিল।
থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে তারা আটক ১৮ জন কম্বোডীয় সেনা মুক্তির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার এই সেনাদের ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।
এ বিষয়ে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন বলেন, ড্রোনের বিষয়টি তুলনামূলক ছোট একটি ঘটনা। দুই দেশই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে এবং দ্রুত তদন্ত করে সমাধানে একমত হয়েছে।
শনিবারের চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ সীমান্তে মাইন অপসারণ, সাইবার অপরাধ দমন এবং বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকদের দ্রুত ঘরে ফেরার বিষয়েও সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে গোলাগুলি বন্ধ থাকলেও অঞ্চলজুড়ে এখনও অবিস্ফোরিত গোলা ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। অনেক গ্রাম জনশূন্য, স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতার কারণে এখনো ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি আপাতত কার্যকর হলেও সীমান্ত সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। তবে যত বেশি সময় বন্দুক নীরব থাকবে, ততই এই ভঙ্গুর শান্তি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
















