বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও স্থানীয় চাহিদায় ১,৫৭৫ টাকা বৃদ্ধি; রবিবার থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দর
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭ হাজার টাকার ঘর অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই দাম আগামী রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক সভায় এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে স্বর্ণের বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৫০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে।
নতুন মূল্যতালিকা (প্রতি ভরি)
বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, মানের ভিত্তিতে স্বর্ণের নতুন দাম নিচে দেওয়া হলো:
- ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা (ভরি প্রতি বৃদ্ধি ১,৫৭৫ টাকা)
- ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা
- ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা
- সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা
রুপার দামেও রেকর্ড বৃদ্ধি
স্বর্ণের সমান্তরালে বেড়েছে রুপার দামও। নতুন দরে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬,০৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫,৭৭৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট রুপা ৪,৯৫৭ টাকায় বিক্রি হবে।
বাজার পরিস্থিতি ও উদ্বেগে ক্রেতারা
টানা কয়েক দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ায় অলংকার ব্যবসায় ভাটা পড়ার আশঙ্কা করছেন জুয়েলারি মালিকরা। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ এখন অনেকটা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ কম এবং আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
চলতি বছর বাজুস মোট ৯০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে, যার মধ্যে ৬২ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে এক বছরে স্বর্ণের দামের সর্বোচ্চ অস্থিরতার রেকর্ড।
















