আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে রফতানি বাজারেও চমক দেখাচ্ছে রিগ্যাল; পর্যটকদের জন্য আসছে পোর্টেবল এসিসহ অত্যাধুনিক সুবিধা
বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় ট্র্যাকিং ও ক্যাম্পিং বা তাঁবুবাস দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পেতে বান্দরবানের আলীকদম থেকে সাজেক ভ্যালি—সর্বত্রই পর্যটকদের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁবু। এই চাহিদাকে পুঁজি করে এবার আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমানের তাঁবু উৎপাদনে নেমেছে। এমনকি চীনের ওপর মার্কিন শুল্কারোপের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ এখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে তাঁবু রফতানি করছে।
শহুরে যান্ত্রিকতা ছেড়ে পাহাড়ের দুর্গম পথে অ্যাডভেঞ্চার এখন তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রার অংশ। গত নভেম্বরে আলীকদমের মেনকিউ পাড়ায় ক্যাম্পিং করা এক পর্যটক দল জানায়, দুর্গম পরিবেশে তাঁবুতে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা তাদের ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পর্যটকদের এই আগ্রহই এখন দেশের বাজারে তাঁবুর বিশাল এক বাণিজ্য সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রিগ্যাল ফার্নিচারের হাত ধরে দেশি তাঁবুর বাজার
এতদিন ক্যাম্পিংয়ের অধিকাংশ সরঞ্জাম চীন থেকে আমদানি করা হতো। তবে সম্প্রতি রিগ্যাল ফার্নিচার নরসিংদীর ঘোড়াশালে নিজস্ব কারখানায় তাঁবু উৎপাদন শুরু করেছে। বর্তমানে তারা ২ থেকে ১২ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বিভিন্ন মডেলের তাঁবু তৈরি করছে। রিগ্যালের জ্যেষ্ঠ অপারেশন ম্যানেজার এমদাদুল হক জানান, তাদের উৎপাদিত পণ্য ইতিমধ্যে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হচ্ছে। এখন দেশের সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ‘বেস্টবাই’ শোরুমের মাধ্যমে এগুলো বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
দাম ও সহজলভ্যতা
বাজারে সাধারণত একটি ভালো মানের ডাবল-পারসন তাঁবুর দাম পড়বে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। বড় আকারের প্রিমিয়াম তাঁবুগুলোর দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা হতে পারে। এছাড়া পর্যটকদের সুবিধার জন্য ১,৫০০ টাকার মধ্যে ফোল্ডিং চেয়ার এবং ছোট রান্নার সরঞ্জাম (চিলার) বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই পর্যটকরা এসব সরঞ্জাম হাতের নাগালে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আসছে তাঁবুর জন্য বিশেষ ‘পোর্টেবল এসি’
ক্যাম্পিংয়ের অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক করতে এসিআই নিয়ে আসছে পোর্টেবল এসি। সেমস গ্লোবাল প্রদর্শনীতে দেখা গেছে, এই এসি দিয়ে তাঁবুর ভেতর ৫ থেকে ১৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। চার্জে চালিত এই যন্ত্রটি দেড় ঘণ্টার চার্জে টানা ৮ ঘণ্টা ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। যদিও এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তবে গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পিংয়ে এটি গেম-চেঞ্জার হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যটকদের প্রতিক্রিয়া
নিয়মিত ক্যাম্পিং করা পর্যটক আসাদ মিয়া জানান, আগে বিদেশ থেকে আনা দামী তাঁবু কিনতে হতো অথবা ভাড়ায় নিতে হতো। দেশে মানসম্মত তাঁবু তৈরি হলে খরচ যেমন কমবে, তেমনি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষের সংখ্যাও বাড়বে। বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু স্পোর্টস শপে তাঁবু পাওয়া গেলেও রিগ্যালের মতো বড় প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসায় এই খাতের আমূল পরিবর্তন আসবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি এই নতুন শিল্প খাতটি কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।
















