এক সময় ইউরোপের মঞ্চে পিএসজি মানেই ছিল বিপুল বিনিয়োগ আর অপূর্ণ স্বপ্নের গল্প। ঘরোয়া সাফল্য থাকলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় যেন বারবার ধরা দিয়েও ধরা দিত না। সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে স্প্যানিশ কোচ লুইস এনরিকে–এর হাত ধরে। তাঁর অধীনে প্যারিসের ক্লাবটি শুধু সাফল্যই পায়নি, ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের নতুন পরিচয়ও গড়ে তুলেছে।
২০২৩ সালে কোচ হিসেবে প্যারিস সেন্ট জার্মেই–এর দায়িত্ব নেওয়ার সময় এনরিকের সামনে ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অল্প সময়েই তিনি দলকে নতুন কাঠামো ও দর্শনে গড়ে তোলেন। তাঁর সময়ে পিএসজি দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পায়। এই অর্জনেই বদলে যায় ক্লাবের ইতিহাস।
এনরিকের অধীনে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪৩ ম্যাচে পিএসজির জয় ৯৮টি, ড্র ২৬ এবং হার মাত্র ১৯টি। জয়ের হার প্রায় ৬৯ শতাংশের কাছাকাছি। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জয়ের মাধ্যমে আরও একটি শিরোপা যোগ হয়েছে ক্লাবের ট্রফি ক্যাবিনেটে। মাঝখানে ক্লাব বিশ্বকাপে হারের হতাশা থাকলেও সামগ্রিক সাফল্যে পিএসজি এখন ইউরোপের অন্যতম ধারাবাহিক দল।
বর্তমানে এনরিকের সঙ্গে পিএসজির চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়ে আরও বড় পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় ফুটবলে আগে কখনো দেখা না যাওয়া ‘আজীবন চুক্তি’র প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে পিএসজি। ক্লাবের শীর্ষ মহলের কাছে এনরিকে কেবল কোচ নন, বরং ভবিষ্যৎ পিএসজির রূপকার।
এনরিকের সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে দল গঠনের দর্শনে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে ক্লাব ছাড়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন পিএসজি দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু এনরিকে নির্দিষ্ট কোনো তারকার ওপর নির্ভর না করে পুরো দলকে একসূত্রে গেঁথেছেন।
অনুশাসনের ক্ষেত্রেও তিনি কঠোর। নাম যাই হোক, অনুশীলনে ঢিলেমি করলে বেঞ্চে বসতে হয়েছে অনেককেই। এই শৃঙ্খলার ফল মিলেছে মাঠে। উসমান দেম্বেলে তাঁর অধীনে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করেছেন এবং ব্যক্তিগত পুরস্কারও জিতেছেন। তরুণ প্রতিভারাও বুঝে গেছেন, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই একমাত্র পথ।
সব মিলিয়ে পিএসজি ও এনরিকের সম্পর্ক যদি সত্যিই আজীবনের রূপ নেয়, তবে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন এক রাজত্বের গল্প লেখা শুরু হতে পারে—যেখানে প্যারিস থাকবে কেন্দ্রবিন্দুতে।
















