তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগ তোলা নিয়ে উষ্মা: পাল্টা তলবে উত্তপ্ত ঢাকা-দিল্লি কূটনীতি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে ভারত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগের যুগ্ম সচিব বি শ্যাম হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে হাদি হত্যার ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত’ তদন্তের দাবি জানান।
তদন্তের আগে ভারতকে দায় না দেওয়ার বার্তা বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এই ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা এবং উস্কানিমূলক প্রচারণা চালানো সমীচীন নয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতীয় কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভারতকে দায়ী করার ফলে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব তীব্র হচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।
পাল্টাপাল্টি তলবে তুঙ্গে উত্তেজনা উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছিল বাংলাদেশ। দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের সামনে উগ্রবাদীদের বিক্ষোভ এবং পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারে হামলার ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল ঢাকা। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লিতে বাংলাদেশের দূতকে তলব করে মোদি সরকার।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কূটনীতিক উদ্বেগ দিল্লির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে যে বিক্ষোভ হচ্ছে, তার ফলে ভারতের সহকারী হাইকমিশনসহ বিভিন্ন মিশনে হামলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে দুই দেশের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে এটিই সবচেয়ে বড় টানাপোড়েন। দুই দেশই এখন একে অপরের ওপর দোষারোপ করার কৌশলে হাঁটছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
















