দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে উগান্ডায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অন্তত উনিশজন অনাহারে মারা গেছেন এবং প্রায় পনেরো লাখ মানুষ অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসল নষ্ট হয়েছে এবং গবাদিপশুর ওপর নির্ভরশীল বহু পরিবার জীবিকার সংকটে পড়েছে। অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য বিকল্প উপায় খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিশু, গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘ খরা, পরিবেশের অবক্ষয়, বন উজাড়, অতিরিক্ত পশুচারণ, দারিদ্র্য এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত উন্নয়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে সংঘাত, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়াও সংকট গভীর হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকার জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ, খাদ্য সংরক্ষণাগার এবং খরাসহিষ্ণু ফসল উৎপাদনের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ত্রাণ বিতরণে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক সেচব্যবস্থা, খাদ্য সংরক্ষণ, সুষম বিতরণ ব্যবস্থা এবং সরকারি জবাবদিহি নিশ্চিত করলেই ভবিষ্যতে এমন সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
















