অবহেলা নয়—ভিটামিনের ঘাটতি থেকে স্নায়ুর সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই লক্ষণগুলো
হঠাৎ হাতের তালু বা পায়ের পাতায় ঝিনঝিন অনুভূতি, পিঁপড়া হাঁটার মতো লাগা কিংবা অকারণে চুলকানি—এগুলো অনেক সময় শরীরে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। বারবার বা দীর্ঘদিন হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
অনেকেই হাত-পায়ে ঝিনঝিন ধরাকে সাময়িক রক্ত চলাচলের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপসর্গ যদি ঘন ঘন হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা স্নায়ুর সমস্যার প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে।
চলুন জেনে নিই—কোন কোন ভিটামিনের অভাবে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন ই — স্নায়ুর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
ভিটামিন ই-এর ঘাটতিতে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে হাতের তালু ও পায়ের পাতায় ঝিনঝিনি, অস্বস্তি বা চুলকানি দেখা দিতে পারে।
উৎস: বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, পালংশাক, অ্যাভোকাডো।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স — স্নায়ুর বন্ধু
বিশেষ করে ভিটামিন বি–১, বি–৬ ও বি–৯-এর অভাবে হাতে-পায়ে ঝিনঝিন, শিরশিরে ভাব কিংবা অবশ লাগতে পারে।
উৎস: দুধ, ডিম, মাছ, ডাল, সবুজ শাকসবজি, বাদাম।
ভিটামিন বি–১২ — ‘পিঁপড়া হাঁটার’ অনুভূতির কারণ
এই ভিটামিনের ঘাটতিতে হাত-পায়ে পিঁপড়া হাঁটার মতো অনুভূতি, অবশভাব ও দুর্বলতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে স্নায়ু স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উৎস: দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, কলিজা। (শাকাহারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি)
ভিটামিন ডি — শুধু হাড় নয়, স্নায়ুর জন্যও দরকার
ভিটামিন ডি-এর অভাবে তালু চুলকানি, ঝিনঝিনি অনুভূতি ও অস্বস্তি হতে পারে।
উৎস: সকালের রোদ, ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ। সপ্তাহে ৩–৪ দিন ১৫–২০ মিনিট রোদে থাকা উপকারী।
অন্য যেসব কারণেও হতে পারে
- ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হলে স্নায়ু আক্রান্ত হয়
- অটোইমিউন সমস্যা: শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিজ স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে
- অনিয়মিত খাবার ও ঘুম: স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
যদি হাত-পায়ে ঝিনঝিন, চুলকানি বা অবশভাব নিয়মিত হয়, বা দিনের পর দিন স্থায়ী থাকে—তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো কারণ শনাক্ত হলে চিকিৎসাও তুলনামূলক সহজ হয়।
হাত বা পায়ের পাতার এই ছোট লক্ষণগুলো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে। অবহেলা না করে সচেতন হলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
















